‘বঙ্গবন্ধু টানেল: দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন সম্ভাবনা’ শীর্ষক চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার গোলটেবিল বৈঠক
প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ডিটেইলড মাস্টার প্ল্যান ভিত্তিক পরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের উপর গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধু টানেল: দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক আজ (৩১ অক্টোবর ২০২৩ ইংরেজি) মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আলহাজ্ব সুলতান আহমদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মাওলানা ফেরদৌসুল আলম খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ স.উ.ম. আবদুস সামাদ। দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি আলী হোসাইনের সঞ্চালনায় এতে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুহাম্মদ সোলাইমান ফরিদ Solaiman Farid । প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ সামাদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক মেঘা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামেও মেঘা প্রজেক্ট গ্রহণকে আমরা সাধুবাদ জানাই। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেল উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে একটি নব দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।
কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, টানেল উদ্বোধনী জনসভায় কোন মন্ত্রী, এমপি কিংবা আওয়ামীলীগের কোন নেতা টানেলের মাধ্যমে কর্ণফুলীর দু’পাড়ে ওয়ান সিটি টু টাউন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কথা বলেন নাই। চট্টগ্রামের নেতারা ভুলে গেছেন যে, চট্টগ্রামে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামে একটিও নেই। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মহান নেতা মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী এক হাজার একর জমি ক্রয় করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য রেখে গেছেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আমূল পরিবর্তন হবে এ বিষয়ে কোন ঘোষণা বা বক্তব্য না আসায় জনগণ বিস্মিত হয়েছেন।
এতে জনগণ আশাহত হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর দুইপাড়ে চীনের সাংহাইয়ের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ে তুলতেই যদি কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ করা হয়। তবে তা মাস্টার প্লান নিয়ে এগুতে হবে। ডিটেইলড মাস্টার প্ল্যান ভিত্তিক পরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন হলেই টানেলের সুফল আসবে।
লিখিত প্রবন্ধে সোলাইমান ফরিদ দক্ষিণ চট্টগ্রামের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য ৯ দফা দাবি পেশ করেন-
দাবিসমূহ যথাক্রমে-
১. ওয়ান সিটি টু টাউন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্ণফুলী, আনোয়ারা,চন্দনাইশ, পটিয়া,বোয়ালখালি এই পাঁচ উপজেলা নিয়ে একশত বছরের একটি মহা পরিকল্পনা গ্রহন করা।
২. কালুঘাটে একটি নতুন সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩. মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর নামে দক্ষিণ চট্টগ্রামে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৪. ওয়ান সিটি টু টাউন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামে একটি বিশিষ্ট চিকিৎসাবিজ্ঞানী প্রফেসর ডাঃ নুরুল ইসলাম সরকারি মেডিকেল কলেজ ও একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৫. বোয়ালখালীর শেষ প্রান্তে কর্ণফুলীর উপরিভাগে একটি শিল্প জোন ও পটিয়া,চন্দনাইশ,আনোয়ারার কিয়দংশ নিয়ে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তুলতে হবে।
৬. সাবেক পটিয়া মহকুমাকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলায় রুপান্তর করতে হবে।
৭. দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষকে বন্যা থেকে রক্ষা করার জন্য দোহাজারী কক্সবাজার রেললাইনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মান করতে হবে।
৮. চট্টগ্রাম কক্সবাজার সড়ককে ছয় লেইনে উন্নতি করতে হবে।
৯. চট্টগ্রাম -বাশখালী- টইটং সড়ককে কক্সবাজার পর্যন্ত মহাসড়কে রুপান্তর করতে হবে।


