প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার সকালে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শোয়াইব ইবনে আলম।
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় আসামিরা হচ্ছেন- ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ সবুর, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শওকত জামিল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, হাজি আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, রোকসানা জামান চৌধুরী, বশির আহমেদ, প্রফেসর ড. মো. জুনাইদ শফিক, ব্যাংকটির সাবেক পরিচালক তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, সাবেক এফএভিপি মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার (অপারেশন) মোহাম্মদ লোকমান আহম্মেদ, সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার সাইফুল ইসলাম, সাবেক এফএভিপি ও ক্রেডিট ইনচার্জ কান্তা দাশ গুপ্তা, সাবেক এসভিপি ও জুবিলী রোড শাখা প্রধান মোহাম্মদ আবদুল করিম, ক্রিসেন্ট ট্রেডার্সের মালিক সৈয়দ নুরুল ইসলাম, প্রোগ্রেসিভ ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী, সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ইউনিট-২ ও রিভারসাইড এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল খালেক, ব্যাংকের গ্রাহক মো. ইয়াছিনুর রহমান প্রমুখ।
মামলার এজাহারে বলা হয়- ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) জুবিলী রোড শাখা থেকে ক্রিসেন্ট ট্রেডার্স নামীয় নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই একটি হিসাব খোলা হয়। প্রতিষ্ঠানটি মালিক সৈয়দ নুরুল ইসলাম ব্যাংকের ওই শাখায় ২৫ কোটি টাকার ঋণের জন্য আবেদন করেন। শাখার কর্মকর্তারা মিথ্যা তথ্য সম্বলিত পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করেন। শাখার ক্রেডিট কমিটির সদস্যরা যাচাই ছাড়াই সেই ভুয়া প্রতিবেদনসহ ২৫ কোটি টাকা ঋণের সুপারিশ পাঠান প্রধান কার্যালয়ে।
ইউসিবির প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট কমিটি ঋণ প্রস্তাবের একাধিক নেতিবাচক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দেন। তারপরও পরিচালনা পর্ষদের ৪৫৭তম সভায় ঋণটি অনুমোদন পায়। দুর্নীতিপূর্ণ কাগজপত্র ব্যবহার করে ক্রিসেন্ট ট্রেডার্স নামীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২৫ কোটি টাকা ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ওই অর্থ নগদে উত্তোলন, স্থানান্তর এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয়। এ কারণে আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, ঋণ নিয়ে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দুদক তদন্ত করবে। এর আগে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা দায়ের করে দুদক।


