প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দরকার প্রায় ২২ শতকের মতো জায়গা। বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে এই জায়গার জন্য আবেদন করা হয়েছে দেড় বছর আগে। হুকুমদখলের ক্ষতিপূরণের টাকা পয়সা সিডিএ হাতে নিয়ে বসে আছে। অথচ খবর নেই রেলের।
রেলওয়ের কাছ থেকে জায়গা না পাওয়ায় চট্টগ্রামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আগ্রাবাদ থেকে পতেঙ্গামুখী র্যাম্প নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারছে না সিডিএ। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ ডিসেম্বরে, হাতে সময় আছে মাত্র তিন মাস। র্যাম্প নির্মাণ ঝুলে থাকায় প্রকল্পটি নির্ধারিত মেয়াদে শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
র্যাম্পটি নির্মাণ করা না গেলে আগ্রাবাদের সাথে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কানেক্টিভিটিতে বড় ধরনের ধস দেখা দেবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সিডিএ র্যাম্প নির্মাণ না করেই প্রকল্প শেষ করতে বাধ্য হবে।
সিডিএ’র কর্মকর্তারা জানান, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যে পরিমান গাড়ি চলাচলের আশা করা হয়েছিল তা না হওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ হচ্ছে কানেক্টিভিটি। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যেভাবে নির্মিত হওয়ার কথা ছিল পরবর্তীতে সেভাবে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।
নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েতে উঠানামার জন্য ১৫টি র্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল সিডিএর। ২০১৭ সালে অনুমোদিত হওয়া এ প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে ছয়টি র্যাম্প বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামার জন্য র্যাম্পের সংখ্যা ৯ টিতে নিয়ে আসা হয়েছে।
এতে করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কানেক্টিভিটি বেশ কমেছে। বর্তমানে যে ৯টি র্যাম্প নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে নতুন আপদ তৈরি হয়েছে আগ্রাবাদের ডেবার পাড়ের র্যাম্প। এই র্যাম্প নির্মাণে অনিশ্চয়তা আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার কানেক্টিভিটিকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, আগ্রাবাদ রেলওয়ে ডেবার পাড় থেকে একটি র্যাম্প যুক্ত হবে এক্সপ্রেসওয়েতে। এই র্যাম্প নির্মাণের জন্য সিডিএ বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে ২২ শতক জমি চেয়েছে। কিন্তু দেড় বছরেরও বেশি সময় গত হলেও এই জমি পাওয়া যায়নি। ফলে র্যাম্পটির নির্মাণ কাজই শুরু করা যায়নি। সিডিএ রেলওয়েকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পয়সার সংস্থান করে বসে আছে। অথচ রেলওয়ের কোন সাড়া মিলেনি।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল করিম জানান, আমরা দেড় বছর আগে জায়গাটি চেয়ে রেলওয়েকে চিঠি দিয়েছি। আজ পর্যন্ত আমরা জায়গাটি পাইনি। এই জায়গা না পাওয়ায় আমরা কাজ শুরু করতে পারছি না। জায়গাটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে না পেলে আমাদেরকে এই র্যাম্প নির্মাণ বাদ দিয়েই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে।
এই ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ–সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহবুবউল করিম জানান, প্রধান ভূ–সম্পত্তি কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক কমিটির রেলজুলেশনও ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। আমরা এই প্রতিবেদন এখন রেলভবনে পাঠিয়ে দেবো। যেহেতেু সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারি একটি সংস্থা জমি চেয়েছে তাই রিপোর্ট পজেটিভ বলেও জানিয়েছেন রেলওয়ের প্রধান ভূ–সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহবুবউল করিম।


