শুক্রবার, মে ১, ২০২৬
spot_img
Homeচট্টগ্রামচট্টগ্রামে ফুটপাত নেই বললেই চলে, সড়কেও চলছে ব্যবসা, পথচারী হাঁটে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে

চট্টগ্রামে ফুটপাত নেই বললেই চলে, সড়কেও চলছে ব্যবসা, পথচারী হাঁটে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চট্টগ্রাম নগরের সিরাজউদ্দৌলা রোডের সম্প্রসারণে খরচ হয়েছিল ২৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সম্প্রসারণের পর সেই সড়কের একপাশজুড়ে এখন বাজার, অন্যপাশ অবৈধ পার্কিংয়ের দখলে। দোকানিদের দখলে চলে গেছে সড়কের পাশে নির্মিত ফুটপাতও। ফলে সড়কের সম্প্রসারিত অংশ পথচারী কিংবা যাত্রীদের কাজে আসছে না।

শুধু সিরাজউদ্দৌলা রোড নয়; সিডিএর জরিপের তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম নগরের ৯৭ শতাংশ সড়কের একাংশ দখল হয়ে আছে। কোথাও অবৈধ পার্কিং, কোথাও দোকানপাট কিংবা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে সড়ক। অথচ গত দেড় দশকে নগরের সড়ক সম্প্রসারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) খরচ করেছে ১৭ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিডিএ ২৪টি প্রকল্পে ব্যয় করেছে ১২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা, আর চসিক ১৫ প্রকল্পে ৪ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। নগরে সড়ক রয়েছে এক হাজার ৪৪২ কিলোমিটার।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করেছি। এখন সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকা মুক্ত করা হয়েছে, ধাপে ধাপে পুরো নগর দখলমুক্ত হবে।’

এত খরচার পরও পথচারীর জন্য এখনও বিপজ্জনক নগরী চট্টগ্রাম। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৬২ জন। এর মধ্যে পথচারীর সংখ্যা ৩৬৮, অর্থাৎ ৫৬ শতাংশ। আট বছরের ব্যবধানে সড়কে পথচারী মৃত্যুর হার বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির ২০ শহরের তালিকায় চট্টগ্রামের অবস্থান ১২তম।

সিডিএর প্রিপারেশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২০-২০৪১) প্রকল্পের আওতায় নগরের সড়ক ও ফুটপাতের অবস্থান জরিপ করা হয়। জরিপের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নগরের ৯৭ শতাংশ রাস্তার একাংশ দখলে। ৬৪ শতাংশ রাস্তায় পথচারী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। জরিপ করা রাস্তার ৮৩ শতাংশ এলাকায় ফুটপাত আছে। ৭১ শতাংশ ফুটপাত সম্পূর্ণ বা আংশিক দখলে। ৬৮ শতাংশ ফুটপাতে হাঁটার উপযোগিতা নেই।

নগরের বিভিন্ন সড়ক সরেজমিন দেখা গেছে, দেওয়ানহাট থেকে আগ্রাবাদ চৌমুহনী পর্যন্ত গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকান। দোকানের সামনে সারি সারি পার্ক করা গাড়ি। রাস্তার ওপর গাড়ির যন্ত্রপাতি লাগানো ও মেরামত করা হয়। ফুটপাতও চলে গেছে দোকানের দখলে। গাড়ির ফাঁকফোকরে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন পথচারীরা।

অথচ নগরের প্রধান সড়কের লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এটি নির্মাণের কারণে দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কের অনেকটাই কমে গেছে। সড়ক সম্প্রসারণ করতে গিয়ে ফুটপাতও সরু করা হয়েছে।

এ ছাড়া সল্টগোলা ক্রসিং থেকে ইপিজেড পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রেইলার ও ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের দখলে। নগরের নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাত পুরোটা দখলে নিয়েছে হকাররা। এর সঙ্গে সড়কের কিছু অংশও দখল করে বসিয়েছে ভাসমান দোকান। মার্কেটের বাঁ দিকে সারি সারি চৌকি বসানো, যেখানে নানা পণ্য বিক্রি হয়। আর সড়কের উল্টো দিকে সারি সারি জুতা নিয়ে বসেছে হকাররা। এ কারণে পাশের রেয়াজউদ্দিন বাজারে লোকজনের ঢোকার উপায় থাকে না। অভিযোগ রয়েছে, এতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পেশাদার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জলসা মার্কেটের পাশ ঘেঁষে ফুটপাতে একজন পথচারী কোনোভাবে চলতে পারেন, এটুকু জায়গা ছাড়া পুরোটাই থাকে হকারের দখলে।

এ ছাড়া ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকার ফুটপাত ও সড়কের একাংশ ফল ব্যবসায়ী এবং বহদ্দারহাট মসজিদ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড পর্যন্ত একাংশ হকারদের দখলে থাকে। ঢাকা-ট্রাঙ্ক রোডের ফুটপাত দখল করে চলছে লোহার পাইপের ব্যবসা। শুভপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত ফুটপাতে লোহার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ছড়ানো-ছিটানো থাকে। আগ্রাবাদ বাদামতলীতে ব্যাংক মার্কেট বলে পরিচিত জুতা, শার্ট-প্যান্ট বা অন্যান্য পণ্যের মার্কেট গড়ে উঠেছে পুরোপুরি ফুটপাত ও সড়ক ঘিরে।

আন্দরকিল্লা থেকে লালদীঘির পাড় পর্যন্ত ফুটপাত ও রাস্তার অর্ধেকটা জুড়ে ভ্যান গাড়িতে বিক্রি হয় হরেক পণ্য। চেরাগী পাহাড় থেকে হেমসেন লেন পর্যন্ত ফুটপাত ফুল ব্যবসায়ীদের দখলে থাকে সারাবছর। এখানে রাস্তার ওপর সারি সারি গাড়ি দাঁড় করিয়ে বিয়ের গাড়ি সাজানো হয়। কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ এলাকা রয়েছে ফল আর শুঁটকি দোকানির দখলে। চকবাজার এলাকায় ফুটপাত দখল করে চলছে ইট-বালুর ব্যবসা। পুরোনো রেলস্টেশনের ফুটপাত ফল ব্যবসায়ীর দখলে।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়