প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নগর ও জেলা কার্যালয়ের অধীনে নিবন্ধিত রেস্তোরাঁ রয়েছে ১০৫০টি। এর মধ্যে নগরীতে ৫০০টি এবং জেলায় ৫৫০টি রেস্তোরাঁ। এসব রেস্তোরাঁর ৫৩টি পেয়েছে বি থেকে এ প্লাস পর্যন্ত গ্রেড।
দেশে ২০১৯ সালের শুরুতে রেস্তোরাঁগুলোর মান অনুযায়ী স্তর বিন্যাস করা শুরু করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গ্রেডিং বিন্যাসের পর রেস্তোরাঁগুলোকে সবুজ (এ প্লাস), নীল (এ), হলুদ (বি) ও কমলা (সি) রঙের স্টিকার সরবরাহ করা হয়। এ প্লাস মানে উত্তম, এ মানে ভালো, বি মানে গড়পড়তা বা মোটামুটি এবং সি মানে-অনিরাপদ ধরা হয়। তাই এই স্টিকারগুলো নির্দেশ করে রেস্তোরাঁটি কতটুকু নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছে। চট্টগ্রামে কতটি অনিরাপদ রেস্তোরাঁ রয়েছে সেটির অবশ্য কোনো তালিকা নেই। তবে অভিযান হলেই যেভাবে অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ খাদ্য ব্যবহারের চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে বিপুল সংখ্যাক রেস্তোরাঁর মান নিয়ে আশঙ্কা রয়েই যায়।
নগরীতে এ প্লাস পাওয়া ২৯ রেস্তোরাঁ: পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের ওপরে পেলেই এ প্লাস ধরা হয়। তবে রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে এ প্লাস পেতে হলে ৯০ নম্বর পেতে হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবেদনের ভিত্তিতে তদারকি করে তিন পর্যায়ে ৩৩টি রেস্তোরাঁকে গ্রেডিং দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নগর কার্যালয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৮ নম্বর পেয়েছে চট্টগ্রামের একমাত্র পাঁচ তারকা হোটেল-রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ।
৯৫ নম্বর পেয়েছে তিনটি রেস্তোরাঁ; সেগুলো হলো জুবিল্যান্ট ফুডওয়ার্কস বাংলাদেশ লিমিটেডের জামালখান ও জিইসি শাখা এবং পতেঙ্গার রিভার ভিউ রেস্তোরাঁ।
৯৪ নম্বর পাওয়া পাঁচ রেস্তোরাঁ হলো, পতেঙ্গার বারকোড ফুড জংশন, জুবিল্যান্ট ফুডওয়ার্কস বাংলাদেশ লিমিটেডের আগ্রাবাদ শাখা, সিলভার স্পুন, দ্য পেনিনসুলা চট্টগ্রাম এবং হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেড।
৯৩ নম্বর পেয়েছে জিইসির পিৎজা হাট, খুলশীর কে বেকারি, মুরাদপুরের বারকোড ফুড জংশন এবং এম এম আলী রোডের দি ইটালিয়া চট্টগ্রাম।
৯২ নম্বর পেয়েছে দামপাড়ার গ্র্যান্ড মোগল রেস্টুরেন্ট, আগ্রাবাদের সাংরীলা চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও দি কপার চিমনি।
৯১ নম্বর পেয়েছে লালখান বাজারের পিটস্টপ রেস্টুরেন্ট, খুলশীর তাওয়া রেস্টুরেন্ট এন্ড লাউঞ্জ ও চকবাজারের দি কপার চিমনি।
৯০ নম্বর পেয়েছে ১০টি রেস্তোরাঁ। সেগুলো হলো-ওয়াসার কাচ্চি ভাই, জিইসির ওয়েল পার্ক রেসিডেন্স, জিইসির মেরিডিয়ান হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্স ও দি প্যাভিলিয়ন, জামালখানের চিলক্স ও পিৎজা বার্গ, হালিশহরের বে লিফ রেস্টুরেন্ট, আগ্রাবাদের দি গ্রিন শ্যাডো রেস্টুরেন্ট ও হোটেল জামান এন্ড বিরিয়ানি হাউস। ৮৪ থেকে ৮৭ নম্বর পেয়ে এ গ্রেড পাওয়া চারটি রেস্তোরাঁ হলো-বায়েজিদের ক্যাফে বায়েজিদ, হালিশহরের তায়েফ রেস্টুরেন্ট, জামালখানের দাওয়াত রেস্টুরেন্ট ও আগ্রাবাদের মেসার্স ঘরনা রেস্তোরাঁ।
যেভাবে দেওয়া হয় গ্রেডিং: নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার সময় তথ্য ও নথিসহ রেস্তোরাঁর পরিবেশ যাচাই করে। এ সময় ৮টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ১০০ নম্বরে মূল্যায়ন করে তারা। এর মধ্যে প্রশাসনিক বিষয়ে ৮, পরিবেশ ও প্রদর্শনের জন্য ১৪, ভোক্তার সঙ্গে আচরণের জন্য ৯, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ১৬, স্বাস্থ্যবিধির জন্য ২০, খাদ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির জন্য ৬, খাদ্যদ্রব্য মজুদ ও সংরক্ষণের জন্য ১৯ এবং খাদ্য ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার জন্য ৮ নম্বরের ওপর ভিত্তি করে যাচাই করা হয়। এসব বিষয়ের অধীনে আবার পৃথক অনেক বিষয়ে নম্বর দেওয়া হয়।


