Wednesday, June 24, 2026
spot_img
Homeচট্টগ্রামচট্টগ্রাম বন্দর: বাড়ছে বন্দরের জলসীমা

চট্টগ্রাম বন্দর: বাড়ছে বন্দরের জলসীমা

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা আরও ১০ নটিক্যাল মাইল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ৬২ নটিক্যাল মাইল থেকে বেড়ে ৭২ নটিক্যাল মাইল হবে বন্দরের জলসীমা, যা বিস্তৃত হবে সীতাকুণ্ড হয়ে মিরসরাই ইকোনমিক জোনের উপকূল ও ফেনী নদীর মোহনা পর্যন্ত। এর ফলে সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোও বন্দরের আওতায় আসবে। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে নৌপথের নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ মেগা প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা সম্ভব হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সর্বশেষ ২০১৯ সালে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিস্তৃত করে ৫০ নটিক্যাল মাইল বাড়িয়ে নিজেদের জলসীমা ৬২ নটিক্যাল মাইল করা হয়। চার শ বছরের পুরোনো এই বন্দর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার সময় জলসীমা ছিল মাত্র ৬ নটিক্যাল মাইল। ২০১১ সালে তা আরও ৬ নটিক্যাল মাইল বাড়িয়ে আলফা, ব্রেভো ও চালিং অ্যাংকরেজে বিভক্ত করা হয়। এবার এই তিনটি অঞ্চলের সীমানায় পরিবর্তন এনে সন্দ্বীপের প্রথম অক্ষর ‘এস’ নামে নতুন একটি অ্যাংকরেজ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর মোহনা ও পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থান করা লাইটারেজ জাহাজগুলোকে সন্দ্বীপ চ্যানেলের কাছাকাছি এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন অ্যান্ড হারবার) কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, সন্দ্বীপ চ্যানেলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ কাজে লাগিয়ে বর্তমান বন্দরের জলসীমা ৬২ নটিক্যাল মাইল থেকে ৭২ নটিক্যাল মাইল জলসীমা করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে ১০ নটিক্যাল মাইল সম্প্রসারণ করা হবে। বন্দরের সীমা উত্তর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হয়ে মিরসরাই ইকোনমিক জোনের উপকূল ফেনী নদীর মোহনা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে।

এটি অনুমোদিত হলে বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হবে।

বর্তমানে কনটেইনারবাহী জাহাজগুলো বন্দরের জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনালে ভিড়ে পণ্য খালাস করে। বছরে এ ধরনের কনটেইনার হ্যান্ডলিং ৩৫ লাখের মতো। অন্যদিকে চাল, গম, সিমেন্ট ক্লিংকার ও স্ক্র্যাপ লোহাবাহী মাদার ভেসেলগুলো বহির্নোঙরে অবস্থান করে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে। প্রতিবছর চট্টগ্রাম বন্দরে চার হাজারের বেশি পণ্যবাহী জাহাজ আসে।

মূলত নির্ধারিত জলসীমার মধ্যে অবস্থানকারী নৌযান থেকে নির্দিষ্ট হারে শুল্ক আদায় করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বছরে এ খাত থেকে আয় হয় অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা। জলসীমা বাড়লে আয়ও বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মো. ইসমাইল খান বলেন, ‘শুধু বন্দরের সীমা বাড়ালেই হবে না, সেখানে প্রয়োজনীয় সেবাও নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত ড্রেজিং, বয়া স্থাপন এবং নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’

এদিকে, পতেঙ্গা উপকূল ঘিরে বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে বড় আকারের জাহাজ ভিড়বে। পাশাপাশি মিরসরাই ইকোনমিক জোনে পণ্য পরিবহন সহজ করতেও নতুন জলসীমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সঙ্গে বাড়াতে হবে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতাও। কারণ, নৌবাহিনীর পাশাপাশি দেশের বিস্তৃত জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে কোস্ট গার্ড।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়