প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
পদ্মাসেতুর পর এবার উদ্বোধনের অপেক্ষায় বঙ্গবন্ধু টানেল। প্রকল্পের ৮৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে চায় টানেল কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টানেলের উভয়প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া টানেলের অভ্যন্তরে কমিউনিকেশন সিস্টেমসহ ভেন্টিলেশন ও অন্যান্য কাজের আট শতাধিক সরঞ্জাম আনা হচ্ছে চীন থেকে। মূলত করোনার কারণে চীনে বেশ কিছু সরঞ্জাম আটকে পড়ায় কাজের অগ্রগতি কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। তবে অন্যান্য কাজের অগ্রগতি ঠিক রয়েছে।
দুটি টিউবের খননকাজ শেষ করে বর্তমানে টিউবগুলোর সঙ্গে ৬-৭ মিটার পর পর তিনটি ক্রস প্যাসেজের কাজ চলছে। এর মধ্যে একটি ক্রস প্যাসেজের কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি দুটির কাজও চলছে সমানতালে।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, প্রথম টিউবে পেভমেন্ট (রোড সার্ফেজ) স্থাপন কাজ চলছে। এটি শেষ হলে দ্বিতীয় টিউবে পেভমেন্ট স্থাপন শুরু হবে। এছাড়া প্রথম টিউবে লেনস্ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় টিউবেও লেনস্ল্যাব বসানোর কাজ ৮০ শতাংশ শেষ।
নদীর তলদেশে অবস্থিত এ টানেল প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত আরো ছয় মাস সময় দীর্ঘায়িত হলে এটির বাস্তবায়নের সময় হবে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। যদিও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই টিউব সংবলিত মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। এটিই বাংলাদেশের প্রথম সুড়ঙ্গ পথ, যা নদীর দুই তীরের অঞ্চলকে যুক্ত করবে। যার প্রতিটি টিউবের দৈর্ঘ্য দুই দশমিক ৪৫ কিলোমিটার ও ব্যাস ১০ দশমিক ৮০ মিটার। প্রতিটি টিউবে দুটি করে থাকবে মোট চারটি লেন। লেনগুলো দিয়ে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলবে গাড়ি।
২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পরে ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী সুড়ঙ্গ বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানেলটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ হিসেবে পাঁচ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা অর্থায়ন করছে চায়না এক্সিম ব্যাংক। এছাড়া বাকি অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি)।
টানেলটি নির্মিত হলে ত্বরান্বিত হবে কর্ণফুলী নদীর পূর্বপ্রান্তের প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়ন। পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের সঙ্গেও স্থাপিত হবে উন্নত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। কমে যাবে ভ্রমণের সময় ও খরচ।
এছাড়া পূর্বপ্রান্তের শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও প্রস্তুত করা মালামাল চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দরসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহন প্রক্রিয়া সহজ হবে। কর্ণফুলী নদীর পূর্বপ্রান্তের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে বিকশিত হবে পর্যটনশিল্প।


