প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
প্রায় বিশ হাজার গানের রচয়িতা গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তার রচিত গানের মধ্যে রয়েছে- জয় বাংলা বাংলার জয়, একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল, একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়, জন্ম আমার ধন্য হলো’র মতো কালজয়ী দেশাত্মবোধক গান রয়েছে।
আধুনিক গানের মধ্যে আছে, আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল, যার ছায়া পড়েছে, শুধু গান গেয়ে পরিচয়, ও পাখি তোর যন্ত্রণা, ইশারায় শীষ দিয়ে, চোখের নজর এমনি কইরা, এই মন তোমাকে দিলাম -এর মতো কালোত্তীর্ণ গান। বাংলা গানের এই মহীরুহ’র কিছু উক্তি জেনে নেয়া যাক:
এক. যে লেখাটা আপনি বা আপনারা লিখলেন বা যে বুলেটটা ছুড়লেন, সেই বুলেটটা যদি টার্গেটকে স্পর্শ না করে তাহলে সেই ধরনের হাজারটা বুলেট ছুড়েও লাভ নেই। সেই বুলেটে কোনো শত্রু কখনোই মরবে না।
দুই. আমার যদি সৃজনশীল কর্মের প্রেরণা থাকে, প্রতিদিনই আমার কাছে জন্মদিন মনে হয়।
তিন. আমার প্রাপ্তি নয়, সৃষ্টির জন্য যেন কলমটা হাতে থাকে।
চার. এখন পর্যন্ত অকৃতকার্য হওয়ার মতো কোনো ঘটনা আমার জীবনে ঘটেনি অন্তত সৃজনশীল কর্মে।
পাঁচ. অনেকে পেট ভরার জন্য খায়। খাওয়ার পরে তৃপ্তিটা কতক্ষণ রাখতে পারে সেটাও কিন্তু দেখার বিষয়।
ছয়. যা সর্বজনীন নয়, তা কখনো চিরস্থায়ী হতে পারে না।
সাত. তৃপ্তির চেয়ে প্রাপ্তির পেছনে আমরা বেশি দৌড়াচ্ছি। যার কারণে সেই প্রাপ্তিটা উপযুক্ত পরিমাণে আমাদের কাছে না এলে আমরা নিজেদের কিছুটা ব্যর্থ মনে করি।
আট. সৃজনশীল ব্যক্তিদের দরকার হলো সৃজন করা। সৃজন যখন মানুষের কাছে আদৃত হবে, মানুষের কাছে যখন প্রতিষ্ঠিত হবে, মনে হবে আমার জীবনে না চাইতেও আমি অনেক কিছু পেয়ে গেলাম।
নয়. আমি কতটুকু পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারব এবং কতটুকু বর্জন করে আমি সুখে থাকতে পারব, এই পরিমিতি জ্ঞান থাকতে হবে, যেটাকে বলে সেন্স অব রেস্ট্রিকশন।
দশ. যদি আমাকে জানতে সাধ হয়, বাংলার মুখ তুমি দেখে নিও
উল্লেখ্য, কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ৫ বার গীতিকার হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০০২ সালে একুশে পদক, ২০২১ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক, এস এম সুলতান স্মৃতি পদক, একাধিকবার বাচসাস পদক সহ অসংখ্য পুরস্কার রয়েছে তার অর্জনে।


