প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মিঠাছড়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অর্ধকোটি টাকার জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন স্থানীয় চার প্রভাবশালী। জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাদেরকে বার বার বলার পরও কাজ হচ্ছিল না।
উপায় না পেয়ে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বিষয়টি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মমিনুর রহমানকে জানানো হয়। তাৎক্ষণিক অবৈধ দখলদারের নাম উল্লেখ করে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ জারি করেন তিনি।
নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমির দখল বুঝে নিয়ে জেলা প্রশাসককে নিশ্চিত করার জন্য মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নোটিশ দেওয়ার তিনমাস অতিবাহিত হলেও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রটির তৈরি করা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হচ্ছিল না।
এরপর গত ১৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন ও মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে মাদ্রাসার ২ দশমিক ৩০ শতক জায়গা দখলমুক্ত করে দেন জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান।
মাদ্রাসার সম্পত্তি দখলমুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মিঠাছড়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার গভর্নিং বডির সদস্য সচিব ও অধ্যক্ষ মো. এমদাদ উল্লাহ খাঁন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ডিসি হলেন গণমানুষের আশ্রয়স্থল।
অন্যদিকে সত্তরোর্ধ্ব জাহাঙ্গীর আলম জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়েছেন প্রবাসে। খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের জন্য পাঠিয়েছেন টাকা। সেই টাকায় নগরের পতেঙ্গা এলাকায় কেনা হয় ২২ শতক জমি। কিন্তু করণিকের ভুলে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় তাকে ভুগতে হয়েছে দীর্ঘ ১২ বছর।
জাহাঙ্গীর আলম প্রতিবেশীদের কাছে শুনেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মানবিকতার গল্প। তাই একদিন হাজির হন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের কার্যালয়ে। সব ঘটনা শোনার পর দুঃখ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। পরে পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমানকে এক মাসের মধ্যে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জাহাঙ্গীর আলমের জমির নামজারি করার নির্দেশ দেন তিনি।
এরপর বৃদ্ধের নথিপত্র দেখে নামজারি করে দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। গত ১৩ নভেম্বর সংশোধিত খতিয়ান হাতে পান জাহাঙ্গীর আলম।
এ বিষয়ে পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ডিসি স্যারের নির্দেশে সেবাগ্রহীতাদের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে আমরা অহর্নিশ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জাহাঙ্গীর আলমকে দেয়া সেবা তারই অংশ।’
সেবাদানের ক্ষেত্রে এই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা ডিসি মমিনুর রহমান স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন বেশ কর্মব্যস্ত থাকেন। কিন্তু এত কাজের চাপেও তিনি বিচলিত হন না। প্রেশার বোধ করতে দেখা যায় না। ফোন আসলেই মুহূর্তেই ধরেন। তাৎক্ষণিক ধরতে না পারলে ব্যাক করেন। একজন সাধারণ মানুষও তাঁকে ফোন করে পান।
মো. মমিনুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি আমাকে চট্টগ্রামের ডিসি করে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামে তাঁর অনেক স্মৃতি আছে, আছে এই জনপদের মানুষের প্রতি বাড়তি অনুরাগ, ভালোবাসা। চট্টগ্রামের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে তিনি আমাকে বললেন, যাও, চট্টগ্রামের মানুষের সেবা করো, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলোকে এগিয়ে নাও।’
তিনি আারও বলেন, ‘চাকরির কারণে যেখানেই গিয়েছি দেশের স্বার্থ, জনস্বার্থকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিতে চেষ্টা করেছি। যতদিন চাকরিতে আছি, যেখানেই থাকি এই মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাব।’
আর এই মনোবৃত্তির উপর দাঁড়িয়ে চট্টগ্রামকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছেন ডিসি মমিনুর রহমান। হাতে নিয়েছেন বহু চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প-কর্মসূচি। ঐতিহ্যবাহী পরীর পাহাড় সংরক্ষণে এগিয়ে আসা থেকে শুরু করে ‘মিনি সেক্রেটারিয়েট ফর চট্টগ্রাম’ গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। ওই প্রকল্পে ৭৩ দশমিক ৪২ একর জমির ওপর গড়ে উঠবে ৪৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত দপ্তর।
এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরকে ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিসি মমিনুর রহমান। সেখানে খাস জমিতে সিঙ্গাপুরের আদলে ‘নাইট সাফারি পার্ক’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনার প্রস্তাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে।
এসব মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যেতে কখনো-সখনো মধ্যরাত পর্যন্ত অফিস করছেন ডিসি মমিনুর রহমান।


