প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য মারা গেছেন। রবিবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল হেলথ অ্যান্ড হোপে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঐক্য ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ তারেক ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ।
৮৪ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা পঙ্কজ ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন থেকে আইসিইউতে ভেন্টিলেশনের সাহায্যে তার শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখা হয়েছিল। পরে জানা যায়, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর আগে তিনি করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন।
সালেহ আহমেদ জানান, সোমবার সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট বা শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমঘরে রাখা হবে তার মরদেহ। শেষকৃত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সোমবার সকালে।
১৯৩৯ সালের ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলায় রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য। তার বাবা শিক্ষক প্রফুল্ল কুমার ভট্টাচার্য ও মা মনি কুন্তলা দেবী।
চট্টগ্রাম মুসলিম স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন সময়েই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আইয়ুব খানের শাসনামলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে ওই কঠিনতম সময়ে তিনি যোগ দেন পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র ইউনিয়নে। ১৯৬২ সালে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে সামরি শাসন বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৪-৬৫ সালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পান।
১৯৬৬ সালে পংকজ ভট্টাচার্য্য ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন। তার আগেই তিনি গোপন কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন ১৯৬০ সালে। ১৯৬৭ সালে তিনি স্বাধীন বাংলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ হন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানেও তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিষ্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠনেও উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য। তিনি ছিলেন ঐ বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার। পঙ্কজ ভট্টাচার্য ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর কাছে ন্যাপের পক্ষ থেকে অস্ত্র সমর্পণ করেন।
১৯৯৮ সালে দেশের অগ্রগণ্য শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। সাম্প্রদায়িক বা জাতিগত সহিংসতা, নারী নিপীড়ন, শিক্ষানীতিতে মৌলবাদের হস্তক্ষেপ- এসব ইস্যু নিয়ে বরাবরই সোচ্চার থেকেছে এই সংগঠন।
দেশের ২৮টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, ছাত্র, যুব, শ্রমিক, কৃষক, নারী সংগঠনের সমন্বয়ে ‘সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ’-এরও অন্যতম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য।
১৯৯৩ সালে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরাম গঠনের সময় তিনি ছিলেন দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। চলতি বছরের অমর একুশে বইমেলায় পঙ্কজ ভট্টাচার্যের লেখা আত্মজীবনীমূলক বই ‘আমার সেই সব দিন’ প্রকাশ করে প্রথমা প্রকাশন।


