প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করতে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এসেছে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধিদল। ১৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি বৃহস্পতিবার (২৫ মে) সকাল ৯টার পর কক্সবাজারের টেকনাফে পৌঁছায়। তাদের নেতৃত্বে আছেন দেশটির মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের মংডুর আঞ্চলিক পরিচালক অং মাইউ। টেকনাফে পৌঁছানোর পর মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলকে স্বাকত জানান অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) শামসুদ দৌজাসহ সরকারি কর্মকর্তারা।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ দৌজা জানান, প্রতিনিধিদলে ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাসের দুইজন সদস্য রয়েছেন। তারা টেকনাফের ২৬ নম্বর ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিনিধিদলটি মিয়ানমার ফেরত যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন)-১৬ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দীন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলটি টেকনাফের শালবাগান ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলবেন।’
এর আগে প্রত্যাবাসনের জন্য পাঠানো তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই করতে গত ১৫ মার্চ বাংলাদেশে আসে মিয়ানমারের ২২ সদস্যদের প্রতিনিধিদল। তাদের মধ্যে পাঁচজন একই দিন দেশে ফিরে যান। ১৭ জন টেকনাফে সাতদিন অবস্থান করে ৪৮০ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই করেন।
পরে প্রত্যাবাসন পরিস্থিতি দেখতে গত ৫ মে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার যায় ২৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল। এরমধ্যে জন ২০ রোহিঙ্গা ও সাতজন বাংলাদেশি কর্মকর্তা।
শরণার্থী কমিশনের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে সালের আগস্ট থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। তাদের রাখাইনে ফেরত নিতে প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। চুক্তি স্বাক্ষর করলেও রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে মিয়ানমার। মিয়ানমারকে ৮ লাখ ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে বেচে নেওয়া হয়েছে মাত্র ৬০ হাজারের মতো।
রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরাতে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি। এই কমিটি দুটি সভা করলেও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমার ফেরত যাননি।


