প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে সহিংসতা করছে। আওয়মী লীগের নেতাকর্মীরা সেই পরিস্থিতি ধৈর্য্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। এমন ঐক্যবদ্ধ থাকলে জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত হবে।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের দলীয় সংসদ সদস্যরা এবং সব সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে এই যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গত তিন দিনের মতো আওয়ামী লীগ ঐক্য ধরে রাখতে পারলে চতুর্থবারের মত আমরা বিজয়ী হব। আমাদের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। বাংলাদেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাব। স্মার্ট বাংলাদেশের বাস্তবতা উন্নয়নের মহাসড়কে। উন্নয়নের মাইলস্টোন অর্জনের জন্য উন্নতি করার আরও জায়গা আছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) আরও ভিন্ন, জঘন্য ভূমিকায় হাটবে, তাদের সামনে হাতিয়ার এখন একটাই সেটা হলো সহিংসতা। বিএনপির লক্ষ্য এই নির্বাচনকে বানচাল করা। নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোন লক্ষ্মণ নেই। গতকাল যে ভ্যান্ডালিজম, ভায়োলেন্স তারা করেছে তাতে প্রমাণিত হয়।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি চায় নির্বাচন বানচাল করতে। আমরা বারবার বলে আসছি এরা (বিএনপি) ইলেকশন করবে না। এই দলের কেউ নির্বাচন চাইলে, এরকম সহিংসতার আশ্রয় নিতে পারে না। বিএনপির অন্তরে বিবেক ও চেতনা নেই। এরা মনেপ্রাণে ও চেতনায় সন্ত্রাস। এরা সন্ত্রাস ছাড়া কিছু বোঝে না।’
বিএনপিবিহীন নির্বাচন আওয়ামী লীগ চায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সে ধরনের চিন্তাও করি না। কোনো বিহীন বা যুক্তের ব্যাপার না। ইলেকশন, ইলেকশনের মতো চলবে। সংবিধান ফলো করেই নির্বাচন হবে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় সেভাবেই হবে। কোনো ব্যতিক্রম হবে না।’ নভেম্বরে নির্বাচনের ট্রেন ছেড়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা কাউকে বাদ দিয়ে কথা বলব না। আমরা কম্পিটিটিভ নির্বাচন চায়। বিএনপি একটা বড় দল। আমরা তাদের পার্টিসিপেশন চাই। তারা এলে আমরা ওয়েলকাম করব।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি বিদেশিদের কাছে বলছে তারা সমাবেশে করলে আওয়ামী লীগ পাল্টা সমাবেশ করে। বিএনপি তো নাশকতা করে কিন্তু আওয়ামী লীগ পাল্টা সমাবেশ করে না, শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করে।’
তিনি বলেন, ‘আজ ৩০ অক্টোবর আমরা আছি। বিএনপি বলেছিল তারা এদিন নতুন সরকার গঠন করবে। আমরা শান্তি উন্নয়ন সমাবেশে করে টিকে আছি। বিএনপির বেধে দেওয়া ২৮ ও ২৯ অক্টোবর গেল, আমরা কিন্তু আছি। বিএনপির মধ্যে একটা বিটটে মনোভাব। কিন্তু আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফখরুল সাহেব ছাড়া বিএনপির সব নেতা পালিয়ে আছে। তাদের খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। বিএনপির অবরোধের নেতৃত্ব দেবে কে। তাদের নেতাকর্মী সমাবেশ থেকে ফিরে গিয়ে বলছে এদল ভুয়া। তাই তাদের নেতাকর্মী দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। বিএনপির নেতারা বলছে তারেক রহমান ভুয়া, ফখরুল ভুয়া। কেউ কেউ কান ধরে দল ছাড়ার কথা বলছে। বিএনপির সব কিছু ভুয়া।’
বিএনপির-জামায়াতের হামলায় পুলিশ সদস্যকে হত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজন পুলিশ সদস্যকে কীভাবে হত্যা করছে? এটা দেখুন। কত ভয়ংকর তারা। এটাই হলো তাদের আসল চেহারা। গাজায় যা হচ্ছে তার চেয়ে ভয়ংকর।’
ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি সাংবাদিকদের ওপর হামলা করছে, কিন্তু এটা কেন? সাংবাদিকদের ওপর বিএনপি ক্ষেপল কেন? সাংবাদিক যা দেখে তা লেখে, তাও তাদের চোখে বাধে। যারাই নিরপেক্ষভাবে সংবাদ লেখে তারাই বিএনপির চোখে অপরাধী।’
বিএনপি জামায়াতের নৈরাজ্যের কথা ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাজনীতিতে কিছু ভুল আছে, সেগুলো সমাধান করার মতো কিছু সময় আর সুযোগ থাকে না।’
এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘আপনারা সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার জন্য ধন্যবাদ। বিএনপি জামায়াতের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ চলমান থাকবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, কামরুল ইসলাম, আবদুর রহমান, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


