Homeএই মুহুর্তেযেভাবে জিম্মি হয় এমভি আবদুল্লাহ, চিঠিতে জাহাজের সেকেন্ড অফিসারের বর্ণনা

যেভাবে জিম্মি হয় এমভি আবদুল্লাহ, চিঠিতে জাহাজের সেকেন্ড অফিসারের বর্ণনা

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

সোমালিয়ান জলদস্যুদের এমভি আবদুল্লাহর জিম্মি করার ঘটনা চিঠিতে বর্ণনা করেছেন জাহাজটির সেকেন্ড অফিসার মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী।

ঘটনার দিন এমভি আবদুল্লাহর সেকেন্ড অফিসার মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রথম অস্ত্র ঠেকিয়েছিল সোমালিয়ান জলদস্যুরা। সেদিন দুপুর ৩টা ১২ মিনিটে অস্ত্র ঠেকানোর পর জাহাজের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ সিটাডেলে (জাহাজের গোপন ও নিরাপদ কক্ষ) আশ্রয় নেয়া বাকি সব নাবিকদের ব্রিজে আসার নির্দেশনা দেন। তবে সেকেন্ড অফিসার ও ডিউটি ইঞ্জিনিয়ার সিটাডেলে আশ্রয় নেননি।

এমভি আবদুল্লাহ থেকে জাহাজের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ জাহাজের মালিক কেএসআরএমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং এর প্রধান নির্বাহী মেহেরুল করিমের কাছে পাঠানো লিখিত বার্তায় এ তথ্যই পাওয়া গেছে।

ঐ বার্তায় উল্লেখ করা হয়, দস্যুরা জাহাজের কাছে আসার পর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। তবে শেষের দিকে সকলে সিটাডেলে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু জাহাজের সেকেন্ড অফিসার ও কর্তব্যরত ইঞ্জিনিয়ার আশ্রয় নেননি। এরপরপর ৩টা ১২ মিনিটে দস্যুদের অস্ত্রের কাছে জিম্মি হন সেকেন্ড অফিসার মোজাহেদুল ইসলাম। এ সময় তিনি জাহাজের ক্যাপ্টেনের কাছে জিম্মির কথা বললে জাহাজের ক্যাপ্টেন সেই সকল নাবিককে সিটাডেল থেকে বের হয়ে ব্রিজে (জাহাজ পরিচালনার কক্ষ) আসার নির্দেশনা দেন। সর্বশেষ জিম্মিদের কাছে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ চলে যায়।

আরো উল্লেখ করা হয়, দস্যু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আগে সবার কাছে সাহায্যের মেসেজ দেওয়ার পরও কারো কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ঐ সময় এমভি আবদুল্লাহর পাশে আরো ৮ থেকে ৯টি জাহাজ ছিল। দস্যুরা জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাওয়ার পর বিকেল ৫টায় সোমালিয়া উপকূলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা বর্ণনা করা হয়। এ বিষয়ে নৌ বাণিজ্য অধিদফতরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গত ১২ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে কবির গ্রুপের মালিকানাধীন এস আর শিপিংয়ের জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ার খবর জানতে পারেন গ্রুপের কর্মকর্তারা। জাহাজটি আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে সোমালিয়ার অফকোস্টে ৪৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে জলদস্যু দ্বারা আক্রান্ত হয়। জাহাজটিতে মোট ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক আছেন। জাহাজটি ছিনতাইয়ের পর সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলের গ্যরাকাদে নোঙর করে। জাহাজটি বর্তমানে উপকূলের প্রায় এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে নোঙর করা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়