শনিবার, মে ২, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেঈদে কক্সবাজারে হোটেলগুলো দিচ্ছে বিশেষ ছাড়

ঈদে কক্সবাজারে হোটেলগুলো দিচ্ছে বিশেষ ছাড়

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন অঞ্চল। নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্যে বিখ্যাত এই জেলা চট্রগ্রাম থেকে দূরত্ব ১৫২ কিলোমিটার ও ঢাকা থেকে ৪১৪ কিলোমিটার। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও এইখানে আছে আরও অনেক দর্শণীয় স্থান ও স্থাপনা। বিভিন্ন উপজাতি বা নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাসে বৈচিত্রময় এই জেলার প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে লাখ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন। বিশেষ দিনে পর্যটকদের এই সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায় ।

এবার ঈদুল আজহা’র বিশেষ সরকারি ছুটিতে কয়েক লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসতে পারেন বলে ধারণা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন ট্যুরিষ্ট পুলিশ।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন ইনানী, হিমছড়ি,দরিয়ানগর পাটোয়ারটেক, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রামু বৌদ্ধ মন্দির ও রামু রাবার বাগানসহ ইত্যাদি পর্যটন এলাকায়।

ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওন। আমাদের পক্ষ থেকে চারস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটক কম-বেশি এলেও আমাদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। কক্সবাজারে আগত পর্যটকরা যেন কোন হয়রানি বা ক্ষতির সম্মুখীন না হন সেজন্যে সৈকতের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের টিম অবস্থান করবেন।
মো. আপেল মাহমুদ, অতিরিক্ত ডিআইজি, কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ

এবার পবিত্র ঈদুল আজহা’র টানা ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুদের বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার। আগত পর্যটকের জন্য এবার আবাসিক হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউসে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেছে। শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে এই ছুটি থাকছে ২২ জুন পর্যন্ত। নগরীর পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেলে অগ্রিম বুকিং শুরু হয়েছে বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই।

গতকাল শনিবার (১৫ জুন) পর্যন্ত কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল -মোটেলে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ জুনের মধ্যে শতভাগ কক্ষ ভাড়া হয়ে যাবে। ঈদের পরদিন থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার আবাসিক হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন- গত রমজানের ঈদে ১০ দিন ভালো ব্যবসা হয়েছিল। কিন্তু তার কিছুদিন পর থেকে কক্সবাজার একেবারে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে । এই অবস্থায় আমাদের অনেক বড় লোকসানে পড়তে হয়েছে। কোরবানি ঈদে পর্যটক আসবে এবং আমরা লোকসান পুষিয়ে নিতে পারব- এমনটাই আশা করছি।

কক্সবাজার আবাসিক হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন- ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, উপজেলা নির্বাচন ও ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে হোটেল কক্ষ বুকিং কম হতে পারে। তার পরও আমরা আশাবাদী শেষ মুহূর্তে পর্যটক সমাগম বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, পর্যটকদের সুবিধা ও আকৃষ্ট করতে এবার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি এবার ঈদে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসবেন।

হোটেল দি কক্স টুডে ব্যবস্থাপক আবু তালেব জানান, ইতোমধ্যে আমাদের হোটেলে ৭০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। কোরবানি ঈদ ঘিরে বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট দেওয়া হচ্ছে।আশা করি এবার ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকরা ভালো ও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় অতিবাহিত করতে পারবেন।

হোটেল সায়মন ফ্রন্ট ডেস্ক অফিসার সারোয়ার আলম বলেন—আমরা এই ঈদে গ্রাহকদের সন্তুষ্টির জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিসকাউন্ট দিয়েছি। তা ছাড়া বুফে লাঞ্চ ও ডিনারেরও ব্যবস্থা হতে পারে বলে জানান তিনি। ইতিমধ্যে আমাদের হোটেলে ৭০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়