রবিবার, মে ৩১, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তে৬ মাসে সারা দেশে ১৯৪১ খুন

৬ মাসে সারা দেশে ১৯৪১ খুন

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাড়ছে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য। প্রকাশ্যে ঘটছে একের পর এক লোমহর্ষক-বীভৎস হত্যাকাণ্ড। বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের চার জেলায় ৫টি নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পুলিশের হিসাব মতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে ১ হাজার ৯৩১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে ঢাকা রেঞ্জে। সবচেয়ে বেশি খুন হয়েছে জুন মাসে। বিভিন্ন অপরাধে সারা দেশে মামলা হয়েছে ৯১ হাজার ৩৯৪টি। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মূল ভূমিকায় থাকা পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩২৯টি। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুরোপুরি কঠোর ও আরও সক্রিয়তা জরুরি। এদিকে উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে সারা দেশে জানুয়ারি মাসে খুনের মামলা হয়েছে ২৯৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০টি, মার্চে ৩১৬টি, এপ্রিলে ৩৩৬টি, মে মাসে ৩৪১টি, জুন মাসে ৩৪৪টি। এই ছয় মাসে মোট মামলা হয়েছে ১ হাজার ৯৩১টি। এদিকে ঢাকায় জানুয়ারি মাসে খুনের মামলা হয়েছে ৩৬টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩৮টি, মার্চে ৩৩টি, এপ্রিলে ২৯টি ও মে মাসে ৩২টি, জুনে ৪৯টি। এই ছয় মাসে শুধু ঢাকায় খুনের মামলা হয়েছে ২১৭টি। এবং বিভিন্ন অপরাধে সারা দেশে মামলা হয়েছে ৯১ হাজার ৩৯৪টি। এদিকে ২০২৪ সালে বিভিন্ন অপরাধে সারা দেশে মামলা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ০৫টি। এ বছরে জানুয়ারি মাসে খুনের মামলা হয়েছে ২৩১টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৪০টি, মার্চে ২৩৯টি, এপ্রিলে ২৯৬টি, মে মাসে ২৫৯টি, জুন মাসে ২৬৮টি, জুলাইতে ৩৩৪টি, আগস্ট মাসে ৬২৬টি, সেপ্টেম্বরে ২৮৩টি, অক্টোবরে ২৪৯টি, নভেম্বরে ২১১টি, ডিসেম্বরে ২০৪টি। এ বছরে মোট খুনের মামলা হয়েছে ৩ হাজার ৪৩২টি। এবং শুধু ডিএমপিতে খুনের মামলা হয়েছে জানুয়ারিতে ১১টি, ফেব্রুয়ারিতে ৪টি, মার্চে ১৮টি, এপ্রিলে ১৪টি, মে মাসে ১৬টি, জুন মাসে ১৩টি, জুলাই মাসে ৫৯টি, আগস্টে ১১৯টি, সেপ্টেম্বরে ২৮টি, অক্টোবরে ২০টি, নভেম্বরে ১৩টি এবং ডিসেম্বরে ২৪টি। শুধু ডিএমপিতে ৩৩৯টি খুনের মামলা হয়েছে।

মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা রেঞ্জে সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এ বিভাগে গত ৬ মাসে ৪৫৮টি খুনের মামলা হয়েছে। ময়মনসিংহ রেঞ্জে ১১১টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৩৪০টি, সিলেট রেঞ্জে ১০৮টি, খুলনা রেঞ্জে ১৮২টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭৬টি, রাজশাহী রেঞ্জে ১৭৫টি, রংপুর রেঞ্জে ১২৪টি।

দেশে প্রায় কোনো না কোনো অপরাধের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এ সকল ঘটনায় আতঙ্ক কাটছে না জনমনে। গত ১৩ই মে রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চ এলাকায় দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) নিহত হন। তিনি ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ও স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়। ঘটনার দিন রাত ১২টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় সাম্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গত ২১শে এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মো. আরমান হোসেন (২২) নামের এক তরুণ নিহত হন। এদিকে শুক্রবার রাতে মোহাম্মদপুরে দুর্গা মন্দির গলিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে মো. নূর ইসলাম (২৬) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত নুর ইসলাম বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব সুজন কাঠি গ্রামের আবুল ফকিরের ছেলে। তিনি শংকরে থাকতেন। সূত্র মানবজমিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক  বলেন, বর্তমান সময়ে খুন, অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই ও নারী এবং শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধগুলো অনেক বেড়েছে। বর্তমানে যে অপরাধগুলো হচ্ছে তার প্রেক্ষাপটে আমরা এটি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়ে অপরাধীদের শক্তি অনেক বেড়ে গেছে। দেশে একটি চক্রই তৈরি হয়েছে যারা অপরাধটি তার আয়-উপার্জনের উৎস মনে করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অপরাধ দমাতে আরও কঠোর হতে হবে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান  বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন পরবর্তী সময়ে এই সংক্রান্ত অনেক মামলা হয়েছে। এমনকি এর আগের ঘটনাও আছে। যদি মামলার পরিসংখ্যান ধরি, তাহলে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে যে ঘটনাগুলো ঘটে সেগুলো কিন্তু খুব বেশি না। এখানে আগের বেশ কিছু মামলা রয়েছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলন পরবর্তী সময়ে পুলিশকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। অপরাধ দমন করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ সদস্যরা আক্রমণের শিকার হয়েছে। জুলাই-আগস্টের পরে যেমন পরিস্থিতি ছিল সেটি বর্তমান সময়ে অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। অপরাধ দমনে আমরা সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়