Saturday, June 27, 2026
spot_img
Homeএই মুহুর্তেএকই অপরাধের ভিন্ন সাজা, আফগানিস্তানে ফিরল বর্ণবাদ-দাসপ্রথা

একই অপরাধের ভিন্ন সাজা, আফগানিস্তানে ফিরল বর্ণবাদ-দাসপ্রথা

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

তালেবানশাসিত আফগানিস্তানে জারি করা নতুন ‘ফৌজদারি কার্যবিধির’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে একটি আফগান মানবাধিকার সংস্থা। সংস্থাটির অভিযোগ, এই বিধি বৈষম্য, নির্যাতন ও দাসত্বকে আইনি বৈধতা দেয় এবং মোল্লা ও ধর্মীয় নেতাদের ফৌজদারি বিচার থেকে কার্যত দায়মুক্তি দেয়।

মানবাধিকার সংস্থা রাওয়াদারি জানিয়েছে, নতুন বিধিতে নাগরিকদের চারটি সামাজিক শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে এবং একই অপরাধের শাস্তি অপরাধীর শ্রেণিভেদে ভিন্ন হবে। বিধির ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শীর্ষ শ্রেণিতে থাকা ধর্মীয় পণ্ডিত বা মোল্লারা অপরাধ করলে কেবল উপদেশ বা তিরস্কার পাবেন, আর সর্বনিম্ন শ্রেণির ব্যক্তিদের কারাদণ্ড ও শারীরিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

গত ৪ জানুয়ারি তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ১১৯টি অনুচ্ছেদের ‘আদালতের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধি’ অনুমোদন ও প্রচার করেন। এতে বলা হয়েছে, গোত্রপ্রধান ও সামরিক কমান্ডারদের অন্তর্ভুক্ত অভিজাত শ্রেণিকে সাধারণত কারাদণ্ড এড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে, মধ্যম শ্রেণির ক্ষেত্রে কারাদণ্ড হতে পারে এবং নিম্ন শ্রেণির ব্যক্তিদের ওপর জনসমক্ষে বেত্রাঘাত, কারাবাসসহ কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে।

রাওয়াদারি জানিয়েছে, এই বিধি আইনের দৃষ্টিতে সমতা, নির্দোষ ধরে নেওয়ার নীতি, নির্যাতন নিষিদ্ধকরণ, ন্যায্য বিচারের অধিকারসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী। সংস্থাটি আরো বলেছে, এতে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার বা নীরব থাকার অধিকারের কোনো বিধান নেই এবং বিবেচনাধীন শাস্তি (তাজির) আরোপের ব্যাপক সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিধিটিতে ‘গুলাম’ (দাস) শব্দ ব্যবহার করে দাসত্বকে আইনি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ৫ নম্বর দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, হুদুদ শাস্তি ‘ইমাম’ কার্যকর করবেন, আর তাজির শাস্তি কার্যকর করতে পারবেন ‘স্বামী’ বা ‘মালিক’ (বাদার)। হুদুদ বলতে ইসলামী আইনে আল্লাহর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তিকে বোঝায়।

এই বিধান মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ এতে প্রাতিষ্ঠানিক পারিবারিক সহিংসতা ও দাসসদৃশ পরিস্থিতির ঝুঁকি তৈরি হয়, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে, কেননা এটি মালিক ও স্বামীদের শাস্তি কার্যকর করার ক্ষমতা দেয়।

বিধি প্রকাশের পর বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও তালেবানবিরোধী গোষ্ঠী এর সমালোচনা করেছে। আফগানিস্তানের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ফারিদ হামিদি বলেছেন, এটি এমন একটি নথি যা সব নাগরিককে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং মানবিক মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত হানে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট বিধিটির প্রভাবকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। রাওয়াদারি জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র : আমু টিভি, দ্য ফেডারেল, এনডিটিভি, কাবুল নাও

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়