প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছে। ‘অ্যান ইন্টারভিউ উইথ তারেক রহমান—লাইকলি নেক্সট প্রাইম মিনিস্টার’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির পরবর্তী নেতৃত্বের দিক থেকে তারেক রহমানকে এগিয়ে ধরা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটি আরও জানিয়েছে, ব্লুমবার্গ, টাইম ও দ্য ইকোনমিস্টের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে তারেক রহমানকে এগিয়ে থাকা সম্ভাব্য নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
বিশ্বকাপের ঘাঁটি হিসেবে নিরিবিলি শহরকে বেছে নিল আর্জেন্টিনাবিশ্বকাপের ঘাঁটি হিসেবে নিরিবিলি শহরকে বেছে নিল আর্জেন্টিনা
দ্য ডিপ্লোম্যাট নির্বাচনের আগে পরিচালিত একাধিক জনমত জরিপের ফলাফলও তুলে ধরেছে। ডিসেম্বর মাসে এক জরিপে দেখা গেছে, বিএনপির প্রতি সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন মাত্র ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ইনোভিশন কনসাল্টিং পরিচালিত আরেকটি জরিপে ৪৭ শতাংশের বেশি ভোটার তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, আর ২২.৫ শতাংশ ভোটার মনে করছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দেশের প্রধান নির্বাহী হবেন।
প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, এবারের নির্বাচনে মূল ভোটার শক্তি হবে জেনজি বা তরুণ প্রজন্ম। তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনি কর্মসূচিতে তরুণরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জে এক নির্বাচনি সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় টাঙ্গাইলের উদ্দেশে যাওয়ার সময় দ্য ডিপ্লোম্যাটকে সাক্ষাৎকারে তিনি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযুক্তির কথা তুলে ধরেন।
জেনজি প্রজন্মের ভোটারদের গুরুত্ব বোঝাতে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এই প্রজন্মের চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আমরা কর্মসংস্থান, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি খাত এবং চাকরির বাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি—যা জেনজির সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত।
তিনি আরও বলেন, ‘দ্য প্ল্যান’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও পটভূমির শিক্ষার্থীদের কথা শোনা হচ্ছে, যেখানে তারা নিজেদের ভাবনা ও উদ্বেগ তুলে ধরছেন। তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, ‘আমি সত্যিই তাদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে উপভোগ করি।’
মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা হবে ফ্রি, জামায়াত আমিরের ঘোষণামাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা হবে ফ্রি, জামায়াত আমিরের ঘোষণা
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকেন্দ্রিক নীতি গ্রহণ করেছিল। এই প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, তার নেতৃত্বে পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি, যা দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখবে। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখি না কেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থই সর্বাগ্রে থাকবে। আমরা পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও লাভের ভিত্তিতে কূটনীতি পরিচালনা করব।’
নির্বাচনে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করছি না। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কোন পরিকল্পনা তাদের জন্য ভালো।’
ভোটের দিন থাকছে মেট্রোরেলের বাড়তি সুবিধা ভোটের দিন থাকছে মেট্রোরেলের বাড়তি সুবিধা
আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে মানুষ রাতেও ভয় ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারবে এবং অর্থনীতি সুষ্ঠুভাবে চলতে থাকবে।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করব। বিশেষ করে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা—এই সাতটি মূল অগ্রাধিকার বিষয়ে বিশেষ জোর দেব।’
তিনি উল্লেখ করেছেন, জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা তার নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।


