প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার দোহাজারী গ্রামের তিনশ বছরের জোড়া শিবমন্দির এখন ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শন দ্রুত সংরক্ষণ না করা হলে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
মন্দিরের গায়ে থাকা নামফলক সূত্রে জানা যায়, ১১০৫ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই জোড়া শিবমন্দির দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতি বছর এখানে চৈত্রসংক্রান্তিতে শিবপূজা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালিত হলেও যত্নের অভাবে মন্দিরটি প্রচণ্ড ঝুঁকিতে পড়েছে।
গতকাল রবিবার সরেজমিন দেখা যায়, মন্দিরের দেয়ালে নোনা ধরায় পলেস্তারা খসে পড়ছে। টেরাকোটার কারুকাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রাচীন নকশা করা দরজাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম। গম্বুজে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের ফাঁকে বটগাছ ও শেকড় গজিয়ে স্থাপনাটির কাঠামোকে দুর্বল করে তুলছে। মন্দিরের মধ্যে থাকা দুটি শিবলিঙ্গও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সমির চক্রবর্তী, অরবিন্দু দাসসহ অনেকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় মন্দিরটির এই অবস্থা হয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বশীলরা এটি রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। স্থানীয় ভক্তরা মন্দিরের গায়ে মাঝেমধ্যে রঙ করে থাকেন। কিন্তু চুন-সুরকির সংস্কার তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
মন্দিরের পুরোহিত বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী বলেন, এখানে নিয়মিত শিবপূজাসহ বিভিন্ন পূজা-অর্চনা হয়। ভক্তরা এটি প্রতিনিয়ত দেখতে আসেন। কিন্তু মন্দিরের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার না করলে এটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় সুধী সমাজ মনে করে, ফকিরহাটে অবস্থিত এ ধরনের প্রাচীন স্থাপনাগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করে সংরক্ষণে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বিশেষ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তাদের মতে, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে শুধু একটি স্থাপনা নয়, হারিয়ে যাবে এ অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।


