শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেতরুণদের জয়জয়কার

তরুণদের জয়জয়কার

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো প্রার্থীই ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণ ভোটারদের প্রভাবিত করেননি বলে জানিয়েছেন তরুণ ভোটারদের অনেকে। তাদের পছন্দ বয়সে তরুণ, শিক্ষিত প্রার্থীরা। তরুণ ভোটারদের পছন্দের প্রতিফলন পড়েছে অনেক এলাকায়। গতকাল রাত সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত দেশের অনেক আসনে তরুণ প্রার্থীরা হেভিওয়েট প্রার্থীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে ছিলেন। অনেকে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (২৭), কুমিল্লা-৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ (২৭), রংপুর-৪ আসনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও পটুয়াখালী-৩ আসনে গণপরিষদ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, তরুণ প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে দেশ পরিচালনায় প্রভাব ফেলবেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘নো ইয়োর ক্যান্ডিডেট’ পোর্টালের তথ্য বলছে, আসন্ন নির্বাচনে মোট প্রার্থীর ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী প্রার্থীর হার ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যা ছিল ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ২০১৮ সালে শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই বয়সী কোনো প্রার্থীই ছিল না। সেখান থেকে এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

ভোট দিতে আসা তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তরুণদের চাওয়া-পাওয়া প্রথাগত রাজনীতির তুলনায় ভিন্ন। তারা কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত এই প্রজন্ম প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বিবেচনায় ভোট দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণরা যেদিকে ঝুঁকবেন, নির্বাচনের নাটাই সেদিকেই ঘুরবে। বয়সে তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় তরুণ প্রার্থীরা।

সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ২০০৮ সালের নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীর অংশগ্রহণ ছিল ২৪ শতাংশের মতো, যা মোট প্রার্থীর এক-চতুর্থাংশেরও কম। অর্থাৎ এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১০ শতাংশ।

এবারে বিএনপির ২৮৮ প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জনের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে, যা মোট প্রার্থীর ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। দলটির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী যশোর-৪ আসনের রাশেদ খান (২৮)। এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে শেরপুর-১ আসনে সানসিলা জেবরিন (৩২), সাতক্ষীরা-৪ আসনে মো. মনিরুজ্জামান (৩৭), গাজীপুর-২ আসনে এম মঞ্জুরুল ইসলাম রনি (৪১), ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম তুলি (৪২), ময়মনসিংহ-৯ আসনে ইয়াসের খান (৪৩), সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুল (৪৪) ও ঢাকা-১৬ আসনে আমিনুল হক (৪৫) উল্লেখযোগ্য। এবারের নির্বাচনে ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছে এনসিপি। এর মধ্যে ৩১ জন, অর্থাৎ ৯৬ দশমিক ৮৮ শতাংশই তরুণ। দলটির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হচ্ছেন নোয়াখালী-৫ আসনের আবদুল হান্নান মাসউদ। তার বয়স ২৫ বছর ১১ মাস। তরুণ প্রার্থীদের মধ্যে আরও অনেকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন। গণঅধিকার পরিষদের (জিওবি) প্রার্থীদের বেশির ভাগই তরুণ। জামায়াতের ২২৪ প্রার্থীর মধ্যে ৪৯ জন তরুণ, যা দলটির মোট প্রার্থীর ২১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। সংখ্যার বিচারে অবশ্য তরুণ ও যুবক বয়সী প্রার্থী বেশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের।

তরুণ ভোটার: গতকাল ভোটকেন্দ্রগুলোতে তরুণ ভোটাররা অনেকে একা এসেছেন, অনেকে পরিবারের সঙ্গে ভোট দিতে এসেছেন। অনেকে বন্ধু-বান্ধব মিলে দল বেঁধেও এসেছেন।

তরুণরা বলেছেন, মার্কা নয়, ব্যক্তি হিসেবে ভালো-মন্দ বিচার করেই ভোট দেবেন তারা। দেশের পরিবর্তন চান। তাই হ্যাঁ, না ভোটের ক্ষেত্রেও তারা বিচার বিশ্লেষণ করেই ভোট দেন। শিক্ষিত ও সৎ প্রার্থী তরুণদের পছন্দ বলে জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নাগরিকদের ‘যুব’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ইসির বয়সভিত্তিক উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮-২১ বছরের ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৮ জন, ২২-২৫ বছরের ১ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ১০৬ জন, ২৬-২৯ বছরের ১ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন এবং ৩০-৩৩ বছরের ১ কোটি ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৫ জন ভোটার রয়েছেন। সব মিলিয়ে তরুণ ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫ কোটির কাছাকাছি।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়