বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেইরান যুদ্ধের ফলে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের দাম কমবে: হোয়াইট হাউজ

ইরান যুদ্ধের ফলে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের দাম কমবে: হোয়াইট হাউজ

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমেরিকায় পেট্রোলের দাম হু হু করে বাড়ছে। কিছু কিছু অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন পাঁচ ডলারেরও বেশি দাম দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস বলছে, সব ঠিক হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, দাম বাড়াটা শুধু ‘সাময়িক’। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানে হামলার সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদে দাম আসলে কমে আসবে।

বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে লেভিট বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের দাম কমিয়ে আনবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরির জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পুরোপুরি পূরণ হলে আমেরিকানরা দেখবেন তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত পড়ে যাবে। এমনকি অপারেশন শুরুর আগের চেয়েও কম হতে পারে। আর আমরা এমন একটি পৃথিবীতে বাস করব যেখানে ইরান আর পারমাণবিক বোমা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা আমাদের মিত্রদের হুমকি দিতে পারবে না।’

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার তেলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৩.৪৮ ডলার। এটি ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি। মঙ্গলবার তা আরও বেড়ে ৩.৫৪ ডলার হয়েছে। বৃদ্ধির হার এখন ১৯ শতাংশ।

অঞ্চলভেদে দামের বড় পার্থক্য রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় দাম পৌঁছেছে গ্যালনপ্রতি ৫.২০ ডলারে। অন্যদিকে কানসাসে একই পরিমাণ তেল মিলছে মাত্র ২.৯২ ডলারে।

মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা বাড়ায় পারস্য উপসাগর থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বড়ভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার এক পর্যায়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম দাম এই স্তরে পৌঁছাল।

ইরানের হুমকির কারণে তেলবোঝাই ট্যাংকারগুলো হামলার ভয়ে বন্দরেই দাঁড়িয়ে আছে। ফলে সরবরাহ আটকে গেছে। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সতর্কতামূলকভাবে উৎপাদন কমিয়েছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর চেষ্টা করছে। এতে প্রণালী সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়।

ট্রাম্প প্রশাসন জাহাজ পারাপারের নিশ্চয়তা দিতে ট্যাংকারগুলোকে বিমা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ট্রাম্প নিজেও সামাজিক মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেলের ট্যাংকার ঠেকানোর চেষ্টা হলে ইরানকে ‘এখন পর্যন্ত যা হয়েছে তার চেয়ে বিশ গুণ বেশি’ আঘাত করা হবে।

লেভিট মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ইরানি সন্ত্রাসীদের প্রণালীতে মুক্ত চলাচল বন্ধ করতে দেবেন না। প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে সম্পূর্ণ স্পষ্টভাবে কথা বলেছেন।’

ট্যাংকারগুলোকে ‘রাজনৈতিক ঝুঁকির বিমা’ দেওয়ার কথাও তিনি আবার জানান। প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দেওয়ার পরিকল্পনাও আছে বলে জানান তিনি।

লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও তার জ্বালানি দল বাজারের দিকে কড়া নজর রাখছেন, শিল্পের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং মার্কিন সেনাবাহিনী হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে আরও বিকল্প তৈরি করছে।’

বিস্তারিত না বললেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প এই বিকল্পগুলো ব্যবহার করতে ‘ভয় পান না।’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়