প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ইরাকের ইরবিল শহরের পশ্চিমে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন। আলজাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই ঘাঁটি ফ্রান্স এবং ইরাক উভয় বাহিনীর আবাসস্থল।
ঘাঁটিটি আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁও ইরাকের এরবিল অঞ্চলে ড্রোন হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। নিহত সেনার নাম চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার আরনাউড ফ্রিয়ন। গত মাসের শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম ফরাসি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ম্যাখোঁ বলেন, ‘তার পরিবার এবং তার সহযোদ্ধাদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানাচ্ছি।’ তিনি আরো জানান, হামলায় ফ্রান্সের আরো কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন এবং ফ্রান্স তাদের ও তাদের পরিবারের পাশে রয়েছে।
ম্যাখোঁ এই হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইরাকে ফরাসি সেনাদের উপস্থিতি মূলত ইসলামিক স্টেট-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ।
ইরান যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে এমন হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এরবিলের গভর্নর ওমেদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ইরাকের মাখমুর এলাকায় পেশমারগা ও ফরাসি বাহিনীর যৌথ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন ফরাসি সেনা আহত হয়েছেন।’ বৃহস্পতিবার ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত একটি নিরাপত্তা সূত্রও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরাকে সংঘটিত সব হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’। তারা জানিয়েছে, মার্কিন স্বার্থ, সামরিক ঘাঁটি, এমনকি এরবিলের মার্কিন কনস্যুলেট, বাগদাদের দূতাবাস এবং বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত ভিক্টরি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তারা ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব হামলা শুরু হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হামলার মাত্রা আরো বেড়েছে।
গোষ্ঠীগুলো স্পষ্টভাবে বলেছে, ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই সশস্ত্র সংগঠনগুলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া এবং ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাব দিতেই এসব হামলা চালাচ্ছে।
সূত্র : আলজাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি


