প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মাথাবিহীন লাশ উদ্ধারের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। শনিবার (১৪ মার্চ) পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের একটি ইটভাটার পাশ থেকে সন্ধ্যা নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি মাথাবিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় শ্রমিকরা ইটভাটার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে নদীর তীরে গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে। পরে আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি বরিশাল জেলার বিমানবন্দর থানার গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র দাস (৪২)।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন একটি মোটরসাইকেলে তিন ব্যক্তি ইটভাটায় প্রবেশ করেন। পরে সেখান থেকে দুইজনকে বের হতে দেখা যায়। তদন্তে জানা যায়, মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনের একজন ছিলেন নিহত গোপাল চন্দ্র দাস এবং বাকি দুইজন তরিকুল ইসলাম সরদার সম্রাট (৩৪) ও আবেদীন মাঝি ওরফে রাজু (৪২)।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৮ ও পুলিশের যৌথ দল শনিবার দুপুর ২টার দিকে বরিশাল মহানগরের বিমানবন্দর থানার কাশিপুর চৌমাথা গণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তরিকুল ইসলাম সরদার সম্রাটকে গ্রেফতার করে। পরে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে কোতয়ালি থানার স্টিমারঘাট এলাকা থেকে আবেদীন মাঝি ওরফে রাজুকে আটক করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে গোপাল চন্দ্র দাসকে মোটরসাইকেলে করে ইটভাটায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর-১০, তারিখ ১৪ মার্চ ২০২৬। গ্রেফতার দুই আসামিকে নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।


