বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেদেশে ৭১ শতাংশ মৃত্যুই অসংক্রামক রোগে, দায়ী চিনি লবণ ট্রান্সফ্যাট

দেশে ৭১ শতাংশ মৃত্যুই অসংক্রামক রোগে, দায়ী চিনি লবণ ট্রান্সফ্যাট

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

অতিরিক্ত চিনি, লবণ (সোডিয়াম), স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলা: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিংয়ের ভূমিকা’ শীর্ষক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের কর্মশালায় এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ার ২৮ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় বলা হয়েছে, প্যাকেটজাত খাদ্যের সম্মুখভাগে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিংয়ের (এফওপিএল) প্রচলন খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকর উপায়। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপঘটিত অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সবার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আরও বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ নিয়মিত প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করেন, তবে প্যাকেটের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টিতথ্য অধিকাংশ ভোক্তার জন্য বোধগম্য নয় এবং প্যাকেটে লবণ (সোডিয়াম), চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্সফ্যাটের সঠিক পরিমাণ উল্লেখ করা হয় না। ফলে তারা খাদ্যের প্রকৃত পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না নিয়েই খাদ্য নির্বাচন করেন।

বাধ্যতামূলক এফওপিএল চালু হলে পণ্যের সম্মুখভাগে “অতিরিক্ত” সতর্কবার্তার মাধ্যমে ভোক্তারা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ (সোডিয়াম) ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে এবং সে অনুযায়ী সচেতনভাবে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন। ফলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠবে এবং খাদ্য উৎপাদকরাও পণ্যের গুণগত মান উন্নত করতে উৎসাহিত হবে।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, বিশ্বে ইতোমধ্যে ৪৪টি দেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত কার্যকর ও ব্যয় সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে এফওপিএল চালু করেছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে ভোক্তাদের খাদ্য নির্বাচনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ হ্রাস পেয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের প্রকোপ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়লেও এ খাতে অর্থ বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল, মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ। ফলে সব কমিউনিটি ক্লিনিকে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। টেকসই অর্থায়নের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস, অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্সের (আত্মা) কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়