প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শাখায় জমানো টাকা ফেরত ও ‘হেয়ার কাট’ প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।
রোববার (৩ মে) সকাল ১০টায় ব্যাংক খোলার সময় শতাধিক বিক্ষুব্ধ গ্রাহক ইউনিয়ন ব্যাংকের শাখায় ঢুকে জমাকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে অবস্থান নেন। পরে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তারা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শাখাতেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গ্রাহকদের শান্ত করার চেষ্টা করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সমন্বয়ে পরিচালিত কাঠামোর অধীনে রয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ‘হেয়ার কাট’ বাতিল, স্বাভাবিক লেনদেন চালু এবং জমানো অর্থ ফেরতের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন; তবে এখনো কোনো কার্যকর সমাধান পাননি।
একজন বিক্ষুব্ধ গ্রাহক অভিযোগ করেন, তার হিসাবে কোটি টাকার বেশি জমা থাকলেও প্রয়োজনের সময় সামান্য অর্থও উত্তোলন করা যাচ্ছে না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি কোনো সমাধান পাননি বলে দাবি করেন।
এক আন্দোলনকারী বলেন, ব্যাংকে টাকা রেখে এখন তাদের অনুশোচনা করতে হচ্ছে এবং তারা বর্তমানে কোনো অভিভাবক বা সরকারের পক্ষ থেকে আশানুরূপ কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। ব্যাংকে টাকা রাখাই যেন এখন তাদের জন্য বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের জমানো সব টাকা এই ব্যাংকে রেখে এখন সংসারের দৈনন্দিন ভরণপোষণ চালানোই তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও আস্থা, কিন্তু ইউনিয়ন ব্যাংকের ক্ষেত্রে সেই বিশ্বাসের জায়গাটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকিং কার্যক্রমে চলমান এই অচলাবস্থায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।


