Friday, July 17, 2026
spot_img
Homeএই মুহুর্তেইরানের অবকাঠামোতে হামলা; ওমানে পাল্টা হামলা তেহরানের

ইরানের অবকাঠামোতে হামলা; ওমানে পাল্টা হামলা তেহরানের

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ‘ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করা’। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধের অংশ হিসেবে একটি জাহাজে অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপের আশপাশ, বন্দর আব্বাস এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত বুশেহরে আঘাত হেনেছে।

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর সিরিকেও মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে বুশেহর থেকেও। এছাড়া, খামির বন্দরের কাছে দুটি সেতুতে হামলা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে দুইজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইরানশাহর বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে। এতে বিমানবন্দরের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে সর্বশেষ হামলায় ‘ইরানের কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হানার যে তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম), সেখানে সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনার উল্লেখ ছিল না।

ইরানের হরমুজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতু। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে,, তারা ওমানের ঘানিম অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার এবং ইরান-ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালির একটি পাথুরে স্থাপনায় থাকা সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ রাডার ধ্বংস করেছে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, চলমান হামলার ১৩তম ধাপে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তারা আরও দাবি করে, ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত রয়েছে’ এবং হরমুজ প্রণালি এখনো ‘আইআরজিসি নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।

এদিকে তাসনিম বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসি সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান বাহিনীর একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, ইরানশাহরে ইরানি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ড্রোন হামলা চালিয়ে কুয়েতে থাকা মার্কিন সেনাদের মোতায়েনকেন্দ্র ও রসদ সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। একইভাবে কাতার ও বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। বিমান হামলার প্রেক্ষিতে দেশগুলোতে জারি করা হয় সতর্কসংকেত।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরে কাতারের রাজধানী দোহায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর থেকে দেশটির আকাশসীমায় ‘শত্রু ড্রোন’ শনাক্ত করে সেগুলোকে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ড্রোনগুলো প্রতিহত করার সময় সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ কয়েকটি আবাসিক এলাকায় পড়ে কিছু বসতবাড়ি ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বাহরাইনও। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের সেনাবাহিনী বাহরাইনের সাখির বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন হেলিকপ্টার ও গোয়েন্দা নজরদারি বিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, ‘ইতিহাস, জনগণের সমর্থন, অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির ওপর ভর করে আমরা যেকোনো চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে সতর্কতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি।’

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাসে চালানো হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো, রেলস্টেশনসহ একাধিক বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, হরমুজগান প্রদেশের দুটি সেতুতেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী নির্ভুল অস্ত্রের মাধ্যমে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসহ কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কমান্ডার ইন চিফ (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প)-এর নির্দেশে সেন্টকম ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম।’

এর আগে চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়