কানাডা বিএনপির আলোচনা সভায় ডা. শাহাদাত হোসেন
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। প্রায় ৩০ বছর তিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন অনেকেই আপস করেছেন, তখন বেগম খালেদা জিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও আপস করেননি। এই জায়গাতেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা। তিনি ছিলেন মানবতার প্রতীক।
তিনি সোমবার (১৭ আগস্ট) কানাডার রেডহট তান্দুরী রেস্টুরেন্টের হলরুমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কানাডা পশ্চিম বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশংসা করে মেয়র বলেন, তিনি ছিলেন আপসহীন দেশপ্রেমের প্রতীক। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি সংকটে তিনি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়েই দেশে বারবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সারাজীবনের ত্যাগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যে মশাল জ্বালিয়ে গেছেন, সেই মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন। এই মশাল অত্যন্ত মূল্যবান, যা আমাদের সবাইকে বহন করতে হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, প্রকৃত অর্থে তিনি দেশের জনগণের নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন মানবতার প্রতীক। তিনি দেশের মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশের বাইরে না গিয়ে এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। গণতন্ত্র রক্ষায় তার সংগ্রামী মনোভাবের জন্যই তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
তিনি বলেন, বিপদে আপদে বেগম খালেদা জিয়া সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছুটে গিয়েছেন। তাঁর অন্যতম উদাহরণ ছিল তার শেষ সফরে চট্টগ্রামে এসে নির্যাতিত ও অসহায় রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা ও সহায়তা প্রদান। তীব্র শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি যখন সশস্ত্র বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন, তখনও তিনি নিজের কষ্টের কথা ভাবেননি। সেখানে উপস্থিত তিন বাহিনীর প্রধান ও অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টাদের তিনি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল নেতাকর্মী ও প্রবাসীবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়ার মহানুভবতা ও দেশপ্রেমের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
কানাডা পশ্চিম শাখা বিএনপির সভাপতি আবদুল আহাদ খন্দকারের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তপন মাহমুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কানাডা পশ্চিম বিএনপি নেতা মাহবুব চৌধুরী, নাহিদ আহমেদ, জাকির খান, ইমন চৌধুরী, মাহবুব চৌধুরী রনি, আবদুল রহিম প্রমুখ।


