প্রাইম ভিশন ডেস্ক
মহুয়া বাংলার অলিখিত সাহিত্যের জনপ্রিয় আখ্যান কাব্যপালা। দ্বিজ কানাই প্রণীত এই কাব্যে আবহমান বাংলার অকৃত্রিম ছবি উঠে এসেছে অপূর্ব বাণীবিন্যাসে। মানবমনের চিরকালীন প্রেমাকাক্সক্ষাই এর প্রধান উপজীব্য। জাতপাতের উর্ধ্বে মানবিক সম্পর্কে মহত্বই এতে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। সমগ্র ময়মনসিংহ গীতিকায় মহুয়া পালা সবচেয়ে রোমান্টিক, একই সাথে বিষাদময় আখ্যানও বটে।
পশ্বিমবাহিত সংস্কৃতির আগ্রাসন এবং পথিবীতে অভিন্ন-গ্রাম নির্মাণের সাম্রাজ্যবাদী প্রকল্প যখন আমাদের আত্মপরিচয়ের চিহ্ন সূত্রসমূহ গ্রাস করতে উদ্যত, তখন লোকসাহিত্যের সমৃদ্ধ ভুবনে বিচরণ আমাদের জন্য অনিবার্য হয়ে ওঠে। তখনই আমরা নির্ভর করতে বাধ্য হই আবহমান বাংলার অকৃত্রিম লোক উৎস ময়মনসিংহ গীতিকার প্রশস্ত প্রান্তরে।
ময়মনসিংহ গীতিকার এই আসাধারণ আখ্যান অবলম্বনে ‘প্রমা’র পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা ‘মহুয়া’র নবম মঞ্চায়ন হয়ে গেল শুক্রবার সন্ধায় চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। ‘মহুয়া’র শুরুতেই তবলা ও হারমোনিয়ামের সাথে বাঁশির করুণ সুরে বোঝা গেল বিরহের কাহিনীই আজ প্রদর্শন করবেন শিল্পীরা।
মঞ্চায়নের পর সে ধারণাই সহ্যি হলো। জমিদারপুত্র নদের চাঁদ আর হুমরা-বেদের পালিত কন্যা মহুয়ার হৃদয়ের আকুল আর্তি ছড়িয়ে ছিল কাব্যের প্রতিটি পঙতিতে। প্রেমময় এই আখ্যানে সর্বংসহা বাঙালির নারীর চিরকালীন প্রেমচেতনা, প্রত্যাশা, হতাশা, না-পাওয়ার যন্ত্রণা অসাধারণ শিল্পকুশলতায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রেমাস্পদের সাথে মিলিত হওয়ার আকক্সক্ষা মানব-মানবীর চিরন্তর বাস্তবতা মহুয়াতের প্রতিফলিত হয়েছে। প্রেমের দুর্নিবার আকর্ষনে নদের চাঁদ ছুটে গিয়েছিল মহুয়ার সান্নিধ্যে। কিন্তু অজস্র প্রতিকুলতা যখন উভয়ের মিলনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তখন আত্মবিসর্জনের মধ্য দিয়ে জয়ী করে প্রেমকে। সমগ্র ময়মনসিংহ গীতিকায় মহুয়া পালা সবচেয়ে রোমান্টিক ও একই সাথে বিষাদময় কাহিনী।
শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রদর্শনীর শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রমা’র সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান। মহুয়া’র নির্দেশনায় ছিলেন প্রমার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল ও গ্রন্থনা করেছেন মনজুর মুন্না। প্রযোজনা ভাবনায় ছিলেন বাপ্পা চৌধুরী ও কংকন দাশ।
এতে মহুয়া চরিত্রে কাজ করেছেন হৈমন্তী শুক্লা মল্লিক এবং নদের চাঁদ চরিত্রে কাজ করেছেন মনজুর মুন্না। অন্যান্য চরিত্রে অংশগ্রহণ করেছেন বিশ্বজিৎ পাল, এটিএম সাইফুর রহমান, রুনা চৌধুরী, নাজমুল আলিম সাদেকী সুমন, রোজী বিশ্বাস, রাজু দাশগুপ্ত, মাহফুজ আহমেদ, পার্থ প্রতিম মহাজন, রোমেনা আফাজ রুমি, সুমিষ্টা বড়ুয়া পপি, কলি দাশ, সাফাত জামিল, স্নিগ্ধ চৌধুরী, শারমিন রিমা, নুরউদ্দিন সৌরভ, আফসানা ফাইরুজ, তানজিয়া নওরিন, টিনা বড়ুয়া, ফাল্গুনী সিকদার, মেহেদী হাসান ফয়সাল, সাঈদ আল সোহেল, সুমনা রহমান, মনিরুল মান্নান (মামুন), মুমতাহিনা মাহি, নামিয়া সুলতান ওহী, ইন্দ্রিলা সেন, রামিসা হোসেন স্নিগ্ধা, পুজা দাশ মিতু, মহুয়া আচার্যী, রাজস্রী ভৌমিক। সংগীত ছিলেন লিটন নন্দী, সৈয়দা হুজ্জাতুন নূর আকা। আলোক পরিকল্পনা ও প্রক্ষেপনে ছিলেন বাপ্পা চৌধুরী, তবলায় ছিলেন রানা বড়ুয়া এবং বাঁশিতে বিকাশ নন্দী নিউটন।


