প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে এইচএফও-ভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদেরকে প্রতি ডলারে ১২ থেকে ১৪ টাকা ঘাটতি হজম করতে হচ্ছে
বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান করিম
মূল্য পরিশোধে বিলম্ব এবং বিনিময় হার ওঠানামার কারণে চলতি বছরে ৪৪০০ কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা।
এতদিন ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসাররা (আইপিপি) চালান জমা দেওয়ার ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিল পেতেন। খবর সূত্র টিবিএস।
কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা, অর্থ বিভাগ থেকে অপর্যাপ্ত ভর্তুকি বিতরণ এবং বিদ্যুতের খুচরা মূল্য কম হওয়ার কারণে আইপিপিগুলো এখনও এপ্রিলের বিলের টাকা পায়নি। বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের কাছে তাদের প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার পাওনা আছে।
বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ইমরান করিম এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিলম্বের পাশাপাশি বিনিময় হারের ওঠানামার ফলেও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কারণ তাদেরকে অর্থ পরিশোধের সময় অবমূল্যায়িত টাকা দেওয়া হয়।
তাই, উদ্যোক্তারা এখন বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) সাথে ‘ট্রু-আপ’ নিয়ে আলোচনা করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য ফার্নেস অয়েল আমদানিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করতে এ আলোচনা চালাচ্ছে তারা।
ট্রু-আপ পেমেন্ট হল এমন একটি মাধ্যম, যেখানে একচ্যুয়াল ভ্যালু আর ঘাটতির মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি করা হয়।
বিপ্পার সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি কনফিডেন্স গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যানও ইমরান করিম। কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস লিমিটেডের অধীনে ৩৯৩.৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ফ্যাসিলিটি রয়েছে।
তিনি বলেন, “দেশীয় বিনিয়োগকারী হওয়ার কারণে আমরা পরিশোধের এই বিলম্বকে মেনে নিয়েছি। কিন্তু বিনিময় হারের ওঠানামা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
জানুয়ারিতে ডলারের অফিসিয়াল রেট ছিল ৮৬ টাকা, যা এখন ৯৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে; অথচ বাজারদর বেশি।
“ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে এইচএফও-ভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদেরকে প্রতি ডলারে ১২ থেকে ১৪ টাকা ঘাটতি হজম করতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে একটি ১০০ মেগাওয়াট এইচএফও-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকের বছরে ১০০ থেকে ১২০ কোটির ক্ষতি হবে,” বলেন ইমরান।
“যেহেতু ৫৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রায় ৪০টি এইচএফও-ভিত্তিক আইপিপি পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে, এ থেকে মোট বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ৪৪০০ কোটি টাকা,” তিনি যোগ করেন।
ইমরান করিম বলেন, আইপিপি এর এ ধরনের ক্ষতি পূরণের জন্য ট্রু-আপ পেমেন্টই একমাত্র সমাধান।
“আমাদের চালান জমা দেওয়ার দিন এবং বিপিডিবি আমাদেরকে যেদিন বিল পরিশোধ করবে, এরমধ্যে ডলারের হার ওঠানামা করলে আমরা ট্রু-আপ পেমেন্ট দাবি করতে পারবো। বিপিডিবির পক্ষে থাকলে তারাও ট্রু-আপ পেমেন্ট দাবি করতে পারবে,” যোগ করেন তিনি।
এইচএফও-চালিত পাওয়ার প্লান্টে বাংলাদেশের সকল বিনিয়োগকারীরা ডলার ডিনোমিনেটেড টাকায় পেমেন্ট পাচ্ছেন এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ডলারে পেমেন্ট পাচ্ছেন।
“আমরা আশা করি ট্রু-আপ ব্যবহার করা হলে জটিলতা কমবে। বিষয়টি এখন সরকারের বিবেচনাধীন।”
‘নো-ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ চুক্তি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে বিপ্পার সভাপতি বলেন, বিপিডিবি এই ধরনের চুক্তির অধীনে একটি দুর্দান্ত প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করেছে।
“নো ইলেক্ট্রিসিটি, নো পেমেন্ট বিপিডিবি-পক্ষপাতমূলক একটি চুক্তি। রাষ্ট্র এই চুক্তিগুলো থেকে বেশ উপকৃত হয়েছে,” তিনি বলেন।
কিন্তু উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়েছেন কারণ তাদের জ্বালানি সরবরাহ, জনবল ও খুচরা যন্ত্রাংশ সহজলভ্য রাখতে হচ্ছে। খবর সূত্র টিবিএস।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ইমরান করিম বলেন, জমি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রাপ্যতার মতো কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও তারা তাদের ফ্যাসিলিটিগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে উন্নীত করছে।
২ হাজার মেগাওয়াটের মতো নবায়নযোগ্য প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশের নেপাল ও ভুটানের সাথে দ্বিপাক্ষিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিনিয়োগকারী হিসাবে যেয়ে সেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা সবচেয়ে খারাপ সময় দেখেছি। সামনে আমরা এটি কাটিয়ে উঠবো।”
২০২৬ সালের মধ্যে গ্যাসের দাম স্বাভাবিকে নেমে আসবে বলে আশাব্যক্ত করেন তিনি।


