প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
অর্থই অনর্থের মূল- এটিই জেনে এসেছে সবাই। কিন্তু ভাবনাচিন্তার পরিসরে আরও নতুন কিছু সংযোজন করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তার ব্যাখ্যা নিঃসন্দেহে বহুজনের মুখে হাসি ফোটাবে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ গবেষণার পর জানিয়েছেন, টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায়।
পেনসিলভানিয়ার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ম্যাথিউ কিলিংসওয়র্থ দাবি করেছেন, টাকা থাকলেই সুখ আসে। ব্যাংক ব্যালেন্স যদি টইটম্বুর থাকে তাহলে মুখে হাসি ফুটবে। হাতে টাকা থাকা মানেই মনে খুশি, হাত ফাঁকা মানে অবসাদ। ওয়াশিংটন পোস্ট এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
অধ্যাপক ম্যাথিউ ও তার টিম গত কয়েক বছর ধরে এই নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলছেন, এমন কয়েকজনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল যাদের বেতন খুব কম এবং যাদের খুব বেশি। দেখা গেছে, যাদের বেতন কম এবং পরিবর্তে খরচ বেশি, তাদের মনে সুখ নেই। সারাদিন টাকা নিয়েই চিন্তায় থাকে তারা। বদলে যাদের বেতন বছরে লাখ লাখ টাকা তাদের সুখ অনেক বেশি।
ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স জার্নাল এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বছরে ৮ লাখের বেশি আয় করে এমন লোকজন তাদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনে খুব সুখী। ৩৩ হাজার জনের উপর চালানো হয়েছে এই গবেষণা।
দেখা গেছে বছরে ১০ লাখ বা তার বেশি আয় যাদের তারা সবসময়ই হাশিখুশি থাকেন। আর রোজগার যদি বছরে ৪ কোটির বেশি হয়, তাহলে তো কথাই নেই। এমন লোকজন নাকি যেকোনও পরিস্থিতিতেই পজিটিভ থাকতে পারেন। দুঃখ, অবসাদ খুব কমই হয় তাদের।
তবে টাকা থাকলেই যে সর্বসুখ আসবে তেমনটা জোর গলায় বলতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। ১৫ শতাংশ লোকজনও পাওয়া গেছে যাদের কোটি কোটি টাকা থাকলেও তারা ব্যক্তিগত জীবনে সুখী নয়।
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর মতে, বর্তমান ডিজিটাল জগতে টাকাতেই সুখ আসছে সবচেয়ে বেশি। তবে টাকাই যে ভালো থাকার একমাত্র কারণ তা নয়। টাকা অনেকটা অনুঘটকের মতো কাজ করে। খুশির মাত্রা কয়েক গুণ বাড়াতে সাহায্য করে।


