প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
বিয়ে করেছিলেন ভালোবেসে। কিন্তু বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই উধাও স্ত্রী। সঙ্গে নিয়ে যান কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এখানেই শেষ নয়, তাকে হত্যার চেষ্টার ওঠে অভিযোগও। এরপর থেকে স্ত্রীকে খুঁজতে টানা ৯ বছর ধরে দুই দেশে ছুটেছেন এক চীনা ব্যবসায়ী।
প্রাক্তন স্ত্রীকে খুঁজতে ৯ বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ইউয়ান খরচ করেছেন ওই ব্যবসায়ী। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৮ কোটি টাকার সমান।
ওই চীনা ব্যবসায়ীর দাবি, প্রাক্তন স্ত্রী শুধু বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেই পালিয়ে যাননি, পরিকল্পনা করেছিলেন তাকে হত্যারও।
ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
গত ৩০ জুন নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৫ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শানসি প্রদেশের ৫২ বছর বয়সী লি পিং। চীনা সংবাদমাধ্যম গুয়ানচা ডটসিএনের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি ৬৯ হাজারের বেশি লাইক এবং মন্তব্য পেয়েছে ৯ হাজারের বেশি।
লি পিংয়ের ভাষ্য, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ৭ কোটি ইউয়ানের বেশি আয় করেন তিনি। ২০১৪ সালে একটি ব্যবসায়িক ফোরামে তার পরিচয় হয় রাষ্ট্রায়ত্ত একটি বড় ব্যাংকের হিসাব ব্যবস্থাপক ঝাং শুদানের সঙ্গে। দুজনই শানসি প্রদেশের হানঝং এলাকার বাসিন্দা।
লি জানান, ঝাং তাকে বলেছিলেন, ছোটবেলায় বাবা-মা পরিত্যাগ করেছিলেন তাকে। পরে এক দরিদ্র বৃদ্ধ দম্পতি লালন-পালন করেন তাকে। কঠোর পরিশ্রম করে চাকরি পান ব্যাংকে। পরে লির সন্দেহ হয়, পরিচয়ের আগেই তার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিলেন ঝাং।
আরও পড়ুন
গণিতে পটু হাঙর, তাদেরও থাকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু
১৫ জুলাই ২০২৬
লি ওই ব্যাংকে ২ কোটি ইউয়ান জমা রাখার পর ঝাং বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ধার নিতে শুরু করেন তার কাছ থেকে। তিনি বলতেন, যারা তাকে লালন-পালন করেছেন, তাদের চিকিৎসার জন্য অর্থ প্রয়োজন।
২০১৫ সালের শুরুতে লিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ঝাং। তিনি বলেছেন, লির দেখাশোনা করবেন, সন্তান নেবেন এবং লির আট বছর বয়সী মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্বও নেবেন। একই বছরের মার্চে নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা বলে দাবি করেন ঝাং। পরের মাসে লি ৭৫ লাখ ইউয়ান দিয়ে শেনজেনে একটি ফ্ল্যাট কেনেন এবং সেটি ঝাংয়ের নামে নিবন্ধন করেন। এরপর তাদের বিয়ে হয় হানঝংয়ে।
বিয়ের পরদিন লি গাড়িতে করে রওনা হন শেনজেনের উদ্দেশে। আর ঝাং বিমানে আলাদাভাবে যাওয়ার কথা ছিল। পথে লির গাড়ির ব্রেক বিকল হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
কয়েক দিন পর ঝাং দাবি করেন, চাকরির মূল্যায়ন ভালো দেখানোর জন্য সাময়িকভাবে তার ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে ১ কোটি ইউয়ান। লি পুরো অর্থ দিতে না পারলেও ২৭ লাখ ৪০ হাজার ইউয়ান পাঠান তার হিসাবে।
এরপরই নিখোঁজ হয়ে যান ঝাং। পুলিশ পরে জানতে পারে, তিনি হংকং হয়ে পালিয়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে। লির দাবি, ঝাং তার টাকা, তার কেনা চারটি সম্পত্তির মালিকানার কাগজ এবং নিজের সব পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যান।
পরে তদন্তকারীরা লিকে জানান, শেনজেনে যাওয়ার আগে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল তার গাড়ির ব্রেক। তাদের সন্দেহ, এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন ঝাং ও তার এক সহযোগী।
লি তার ভিডিওতে বলেছেন, ‘তিনি যদি শুধু আমার টাকা নিয়ে পালাতেন, তাহলে হয়তো আমি আর বিষয়টি নিয়ে এগোতাম না। কিন্তু তিনি আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। স্ত্রী হিসেবে আমার সব সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার পরিকল্পনাই ছিল তার।’
এরপর ঝাংকে খুঁজে বের করতে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চীনা কমিউনিটি সংগঠন, গির্জা এবং যোগাযোগ করেন প্রসূতি পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে। পাশাপাশি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী এবং নিয়োগ দেন ব্যক্তিগত গোয়েন্দাও।
লি জানান, এই অনুসন্ধানে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ইউয়ান। শেষ পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ঝাং ও তার সন্তানের সন্ধান পায়। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, ওই শিশুটি লির জৈবিক সন্তান নয়।
লি জানান, শুরুতে ঝাং তার আইনি স্ত্রী হওয়ায় প্রতারণার মামলা এগোয়নি। তবে ২০২০ সালে শেনজেনের একটি আদালত তাদের বিয়ে বাতিল ঘোষণা করেন এবং ঝাংয়ের নামে থাকা চারটি সম্পত্তি লির কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
লির দাবি, ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত প্রতারণা, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও থাকা, শিশু অপহরণ এবং মানবপাচারসহ ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ঝাংকে ৬৫ বছরের কারাদণ্ড দেন।
এ ছাড়া ঝাংয়ের কয়েকজন সহযোগীও ছিলেন বলে দাবি করেছেন লি। তার অভিযোগ, অর্থ ঝাংকে বিদেশে পাচার এবং যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন তারা।


