প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে গৃহহীন মানুষদের ঘর উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরমধ্যে ২ প্রকল্পের আওতায় তিন দফায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার একশ ২৯টি ঘর উপহার দিয়েছেন বর্তমান সরকার।
‘সব আনন্দের শেষ আছে,কিন্তু দেওয়ার আনন্দের শেষ নাই’- পিএইচপি ফ্যামেলির চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমানের নীতিবাক্যকে ধারণ করে সরকারের মানবিক এই পরিকল্পনার সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেছে স্বনামে খ্যাত শিল্পগ্রুপ পিএইচপি ফ্যামেলি। দেশের অসহায়-গৃহহীন মানুষগুলোকে মাথা গোঁজার ঠাঁই ‘স্বপ্নের ঘর’ করে দিতে এবার মাঠে নেমেছেন তারা।
দেশে প্রধমবারের মতো বেসরকারি উদ্যোগে গৃহহীনদের ঘর উপহার দেওয়ার মতো কঠিন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কাজ শুরু করেছে পিএইচপি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পসকো ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহায়তায় প্রথম পর্যায়ে ১৬টি পারিবার পাচ্ছেন ৬০০ বর্গফুটের সেমিপাঁকা এই বাড়ি। যার মধ্যে রয়েছে দুটি কক্ষ, রান্নাঘর,বাথরুম,বারান্দা। আর এই বাড়ি বানাতে ব্যায় হবে পৌনে পাঁচ লক্ষ টাকা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিএইচপি ফ্যামেলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন। তিনি বলেন, বাবা (সুফি মিজানুর রহমান) প্রায়শ্চই একটা কথা বলেন সব আনন্দের শেষ আছে, কিন্তু দেওয়ার আনন্দের শেষ নাই।’ বাবার সেই কথাকে আদেশ মনে করে দেশের জন্য নীরবে কাজ করে যাচ্ছে পিএইচপি। যোগ করেন মহসিন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের একার পক্ষে দেশের সব গৃহহীন মানুষকে বাড়ি বানিয়ে দেওয়া সম্ভব না বলেই বেসরকারি সব শিল্পোদ্যোক্তাদের উচিত মানবিক এই কাজে সরকারের পাশে দাঁড়ানো।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই পিএইচপি ফ্যামেলি সব সময় অসহায় মানুষের মাথায় ছাতা হয়ে থাকার চেষ্টা করেছে-এখনো করছে। এটাই সুফি মিজানের লক্ষ এবং আদর্শ।
তিনি আরও বলেন, ছোট ছোট উদ্যোগ নিয়ে সবাই মিলে আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে দেশের সব গৃহহীন মানুসকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়া অসম্ভব কিছু না।
মোহাম্মদ মহসিন আরও বলেন, আজ ১১ ডিসেম্বর, রোববার নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম দফায় পাঁচটি বাড়ি হস্তান্তর করা হবে। বাকিগুলো করা হবে আগামী মার্চের মধ্যে।
পসকো ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ অফিসের কমার্শিয়াল ডিপার্টমেন্টের হেড আহসানুল আলম বলেন, ‘যাদের নিজস্ব জমি আছে, কিন্তু বাড়ি বানানোর সক্ষমতা নেই এমন মানুষকে আমাদের ডিজাইনে বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। এটা পাইলট প্রজেক্ট। পিএইচপির সহযোগিতায় আগামী দিনেও আমাদের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। ’
আহসানুল আলম জানান, প্রতিটি বাড়ি বানাতে খরচ হচ্ছে চার লাখ ৭০ হাজার টাকা। পিএইচপি কালারকোটেড ঢেউটিনের মতো বাজারের সেরা ও মানসম্মত সামগ্রী দিয়েই বাড়িগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি বাড়ি টেকসই ও মজবুত হয়।
উল্লেখ্য, স্বশরীরে উপস্থিত থেকে গৃহহীনদের কাছে ঘর হস্তান্তর করবেন পিএইচপি ফ্যামেলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা পসকো ইন্টারন্যাশনালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কেইন লি সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।


