প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ঘুমের মধ্যে কথা বলা একটি অদ্ভুদ ঘটনা, এটি আপনার মনে হতে পারে। কিন্তু ঘুমের মধ্যে কথা বলা খুব সাধারণ একটি ঘটনা। তবে গভীর রাতে ঘুমের ভিতর কথা বলার কারণ কি? এটা কী আমাদের স্বপ্নে দেখার সঙ্গে কোনো সম্পর্কযুক্ত? এটা কী কোনো কারণে আমাদের ক্ষতি করে? এসব প্রশ্নের উত্তর আজ চলুন জেনে নেই।
ঘুমের ভেতর কথা বলা
ঘুমের মধ্যে কথা বলা একটি সাধারণ ধরণের প্যারাসোমনিয়া বা অস্বাভাবিক ঘুমের কার্যকলাপ বলে ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা আরো বলেন, প্রতি তিনজনের মধ্যে দুইজন জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ঘুমের মধ্যে কথা বলে। বিশেষ করে অল্পবয়সীদের মধ্যে এটি প্রায়ই ঘটে। এটি আসলে ক্ষতিকারক নয়।
মানুষ ঘুম মধ্যে কী কথা বলে?
প্রথমেই শব্দ করা থেকে শুরু করে পুরো কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারে এসব ব্যক্তি। কিন্তু ঘুমন্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কে আসলে কী ঘটছে তা বোঝা কঠিন। ঘুমের মধ্যে একজন ব্যক্তি তার জীবন, সাম্প্রতিক ঘটনা বা পূর্ববর্তী কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারে আবার নাও পারে। স্বপ্নের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে ওই ব্যক্তি সব কথা যে সপ্নের সঙ্গে যুক্ত সেটাও বলা যাবে না। বিষয়টি আসলে একটু জটিল৷
ঘুমের মধ্যে আমরা কথা বলি কেন?
কেন মানুষ ঘুমের মধ্যে কথা বলে এর জন্য আরো গবেষণার প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই মনে করে ঘুমের অভাব বা ঘুমের ব্যাঘাতের কারণে এটি হয় অথবা ঘুমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশের না পেলে এমন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, যদি আপনার ঘরটি খুব গরম বা ঠান্ডা হয় বা খুব বেশি আলো থাকে সে কারণে হতে পারে।
যদিও অন্যান্য আরো কারণ থাকতে পারে। যাদের মানসিক সমস্যা রয়েছে তারা ঘুমের মধ্যে বেশি কথা বলে, অনেকে এটা ভাবেন। আবার যারা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি)-তে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রায়ই ঘটে বলে মনে করা হয়।
ঘুমের মধ্যে মানুষ চিৎকার কেন করে?
ঘুমের কথা বলা ক্ষতিকারক নয় কিন্তু আপনি যদি ঘুমের মধ্যে চিৎকার করা শুরু করেন তবে বাকিরা আর ঘুমাতে পারবে না। ‘আরইএম স্লিপ বিহেভিয়ার ডিসঅর্ডার’ এবং ঘুমের আতঙ্ক মানুষকে ঘুমানোর সময় চিৎকার করতে বাধ্য করে। ঘুমের আতঙ্ক, যা রাতের আতঙ্ক নামেও পরিচিত। এটির লক্ষণ হলো, ভয়ঙ্কর চিৎকার, লাথি মারা ইত্যাদি।
ঘুমের মধ্যে কথা বলা কি ক্ষতিকর?
ঘুমের মধ্যে এলোমেলো কথা বলাটা সমস্যা নয়। তবে ঘুমের সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। যদি আপনার ঘুমের মধ্যে কথা বলাটা হঠাৎ শুরু হয় বা ঘুমের মধ্যেই চিৎকার বা হিংসাত্মক কাজকর্ম শুরু করেন তবে অবশ্যই ডাক্তার দেখান।
সূত্র : টম’স গাইড ডটকম।


