বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতামিয়ানমার জান্তাকে অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ ১৩ দেশ

মিয়ানমার জান্তাকে অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ ১৩ দেশ

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ভারত ও জাপানসহ বিশ্বের অন্তত ১৩টি দেশের কোম্পানি অস্ত্র তৈরিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে সহায়তা করছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘের এক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে এই অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে।

এতে বলা হয়, মিয়ানমারের যেসব নাগরিক সেনাবাহিনীর বিরোধিতা করে, তাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী স্বদেশে উৎপাদিত অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। এরপর থেকে দেশটিতে সহিংসতা চলছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের দেওয়া মিয়ানমার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে সংস্থাটির বিশেষ উপদেষ্টা পরিষদ বলেছে, জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। তবে এটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী নিজেরাই বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরি করতে পারে এবং সেসব অস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশগুলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে কাঁচামাল, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করে। ফলে দেশে উৎপাদিত অস্ত্র মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষায় ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ইয়াংহি লি বলেছেন, মিয়ানমারে কখনোই কোনো বিদেশী রাষ্ট্র আক্রমণ করেনি। এমনকি মিয়ানমার কোনো দেশে অস্ত্র রপ্তানি করে না। ১৯৫০ সাল থেকে দেশটি নিজের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য নিজেরাই অস্ত্র তৈরি করছে।

মিয়ানমারের সরকারি হিসাব মতে, সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সামরিক বাহিনীর হাতে ২ হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হয়েছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ১০ গুণ বেশি বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

সামরিক অভ্যুত্থাপের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তারপরও দেশটির শাসকদের জন্য স্নাইপার রাইফেল, বিমান বিধ্বংসী বন্দুক, ক্ষেপণাস্ত্র, গ্রেনেড, বোমা এবং ল্যান্ডমাইনসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরি করতে সমস্যায় পড়তে হয়নি।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনটিতে ইয়াংহি লির সহলেখক ছিলেন ক্রিস সিডোতি এবং মারজুকি দারুসমান। তাঁদের কাছে একজন নির্ভরযোগ্য সূত্র সাবেক সেনাদের সাক্ষাৎকার, অস্ত্র কারখানার স্যাটেলাইট চিত্র ও সামরিক নথি ফাঁস করেছে। ২০১৭ সালে তোলা ছবিগুলো প্রমাণ করে, সেনা অভ্যুত্থানের আগেও দেশে তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

ক্রিস সিডোতি বলেছেন, ‘সম্প্রতি সাগাইং অঞ্চলে একটি স্কুলে বোমা হামলা হয়েছে এবং অনেক শিশু নিহত হয়েছে। ওই হামলার পর ঘটনাস্থলে যে অস্ত্রগুলো পাওয়া গেছে, সেসব দেশীয় কারখানায় তৈরি বলে স্পষ্টভাবে সনাক্ত করা গেছে।’

জাতিসংঘের বিশেষ উপদেষ্টা পরিষদ বলছে, অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম অস্ট্রিয়া থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ট্রিয়ার জিএফএম স্টেয়ার যে অস্ত্রগুলো সবরাহ করেছে, সেগুলো বিভিন্ন সময়ে বিদ্রোহ দমন করকে সেনাবাহিনী ব্যবহার করেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রগুলো যখন রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়, তখন তাইওয়ানে পাঠানো হয়। সেখানে জিএফএম স্টেয়ারের প্রযুক্তিবিদেরা অস্ত্রগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করেন বলে জানা গেছে। তবে অস্ট্রিয়ার প্রযুক্তিবিদেরা মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গিয়ে কাজ করেন কিনা সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

বিবিসি জানিয়েছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে তারা জিএফএম স্টেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়