Homeমুল পাতাঘুমের দৃশ্য সম্প্রচার করে তারকারা যেভাবে আয় করছেন হাজার হাজার ডলার

ঘুমের দৃশ্য সম্প্রচার করে তারকারা যেভাবে আয় করছেন হাজার হাজার ডলার

 

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

সাধারণত দৈহিক ও মানসিক বিশ্রামের জন্য মানুষ ঘুমায়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু তারকা শুধু বিশ্রাম নয়, বরং অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবেও ঘুমকে বেছে নিয়েছেন। খবর বিবিসির।

বলছিলাম সম্প্রতি ইউটিউব, টিকটকে জনপ্রিয় হওয়া ‘স্লিপ স্ট্রিম’ এর কথা। যেখানে মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার তারকারা নিজেদের ঘুমের লাইভ ফুটেজ সম্প্রচার করে থাকে।

সম্প্রতি এমন বহু ব্যক্তি নিজেকে ‘স্লিপ স্ট্রিমার’ তারকা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। ঠিক তেমনি একজন মার্কিন ইউটিউবার কাই সিনাত।

কিছুদিন আগেই কাই যুক্তরাষ্ট্রে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় এসেছিল। তবে সম্প্রতি এই ইউটিউবার ‘স্লিপ স্ট্রিমার’ হিসেবেই যেন বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে যে, কাই গত মার্চ মাসব্যাপী ক্রমাগত স্লিপ স্ট্রিম করে হাজার হাজার ডলার আয় করেছেন।

অন্যদিকে মার্কিন কন্টেন্ট নির্মাতা অ্যামোরান্থও প্রবেশ করেছেন স্লিপ স্ট্রিমের জগতে। গত জুন মাসে ‘দ্য আইসড কফি আওয়ার’ নামের এক পডকাস্টে তিনি জানান, প্রতিটি স্লিপ স্ট্রিম থেকে তিনি প্রায় ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, স্লিপ স্ট্রিমের প্রতি দর্শকেরা ঝুঁকছে কেন? একজন মানুষ ঘুমাচ্ছেন, সেটির স্ট্রিম দেখে আসলেই কী লাভ হচ্ছে?

এ সম্পর্কে দর্শকেরা জানান, স্লিপ স্ট্রিম তাদের এমন একটা অনুভূতি প্রদান করে যে, “স্ট্রিমারের সাথে সাথে আমিও ঘুমিয়ে পড়তে পারি।” এছাড়াও এটিকে ভিন্নধর্মী বিনোদনের উৎস হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

স্লিপ স্ট্রিম এর আইডিয়াটি অনেকটা উদ্ভট মনে হতে পারে। তবে এমন চর্চা একেবারে নতুন নয়। ২০০০ এর দশকের শুরুর দিকে ‘বিগ ব্রাদার’ নামের একটি রিয়েলিটি শো বেশ দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে। ঐ শো তে ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টারই ক্লিপ সংগ্রহ করা হয় এবং সেখানে রাতে ঘুমানোর বিষয়টিও ছিল।

এছাড়াও ২০০৪ সালে ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি দর্শকদের জন্য চমক নিয়ে আসে। তারা জনপ্রিয় তারকা ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যামের ঘুমের এক ঘণ্টার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল।

সময়ের সাথে সাথে স্লিপ স্ট্রিম এর ধারণা বেশ ডালপালা মেলেছে। এক্ষেত্রে শুধু ঘুম দেখার জন্য দর্শকেরা অর্থ খরচ করছে, এমনটাই নয়। বরং পছন্দের স্ট্রিমারদের জাগিয়ে রাখতেও দর্শকেরা খরচ করছে অর্থ। এছাড়াও অর্থ প্রদানের মাধ্যমে দর্শকেরা স্ট্রিমারকে ঘরে জোরে আওয়াজ করছে, ঝিকিমিকি বাতি তৈরি করাসহ নানাভাবে বিরক্ত করতে পারছে।

মূলত ভিন্নধর্মী এ স্লিপ স্ট্রিমগুলি অনেকটা লাইভ অ্যাকশন ভিডিও গেইমসের মতো। যেখানে স্ট্রিমার ঘুমানোর চেষ্টা করেন আর দর্শকেরা স্ট্রিমারকে জাগিয়ে রাখতে বিচিত্রধর্মী সব কাজ করে থাকে।

স্লিপ স্ট্রিমের ট্রেন্ড সর্বপ্রথম শুরু হয় টিকটকে। যেখানে জ্যাকি বোহেম, স্ট্যানলিমভ নামের ব্যক্তিরা নিজেদের ‘স্লিপ ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এ বিষয়ে স্ট্যানলিমভ জানান, তিনি মাঝে মাঝে স্লিপ স্ট্রিম করে ভালোই আয় করতেন।

অন্যদিকে স্লিপ স্ট্রিমের দর্শকেরা নিজেদের ইচ্ছে পূরণ করতে মোটা অঙ্কের অর্থও খরচ করে। যেমন, স্লিপ ইনফ্লুয়েন্সার স্ট্যানলিমভকে ব্রেসলেটের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক প্রদানের জন্য একজন দর্শককে ৯৫ ডলার খরচ করতে হয়।

এ সম্পর্কে স্ট্যানলিমভ বলেন, “সাধারণত আমি যখন স্লিপ স্ট্রিম করি, তখন সেটি যাতে পরবর্তীতে আলাদা কন্টেন্ট আকারেও ব্যবহার করতে পারি সেই বিষয়টি মাথায় রাখি। তাই আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার মতো বিষয়গুলো দিনশেষে আমার জন্য একেকটা ইউটিউব কন্টেন্ট।”

স্ট্যানলিমভ আরও বলেন, “আমি ঠিক জানি না এটা আমাদের আদিম প্রবৃত্তির মতো কি-না। তবে এটা সত্য যে,কিছু লোক সত্যিই অন্যদের ব্যথাপ্রাপ্ত কিংবা আহত হতে দেখতে পছন্দ করে।”

স্লিপ স্ট্রিম এ একেকটি কাজের জন্য দর্শকদের একেক পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়। যেমন, স্ট্যানলিমভের ঘরের ঝিকিমিকি আলোর জন্য ১২ ডলার কিংবা ঘরে প্রচণ্ড পরিমাণে আলোর জন্য দর্শককে ২৪ ডলার ফি দিতে হয়।

আয়ের ভালো সুযোগ থাকলেও সম্প্রতি স্লিপ স্ট্রিম থেকে সরে এসেছেন স্ট্যানলিমভ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মূলত মানসিক স্বাস্থ্য ও অধিক পরিশ্রমের কথা চিন্তা করে স্লিপ স্ট্রিম থেকে বিরতি নিয়েছি। গত তিন বছর ধরে আমি একাই সবকিছু করেছি। সপ্তাহে প্রায় তিনটি ভিডিও রেকর্ড থেকে শুরু করে এডিটিং; আমাকে অনেক চাপ নিতে হয়েছে।”

তবে স্লিপ স্ট্রিম জনপ্রিয় হওয়ার বিষয়টি ঠিক কতটুকু ইতিবাচক, সেটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। স্লিপ এক্সপার্ট লিন্ডসে ব্রাউনিং এক্ষেত্রে দুটি স্কুল অফ থটের কথা উল্লেখ করেছেন।

লিন্ডসে ব্রাউনিং বলেন, “বিজ্ঞানসম্মতভাবে এটা স্বীকৃত যে, প্রতি রাতে নিয়মিত ভালো ঘুমের প্রচুর উপকারিতা রয়েছে। তবে বাস্তব প্রেক্ষাপট কিন্তু ভিন্ন। যখন সন্তান অসুস্থ হয়ে যায় তখন তার পিতা-মাতা কি ঠিকঠাক ঘুমায়? এমন বহু কারণ রয়েছে যার ফলে আমাদের কয়েক দিন হয়তো রাতে ভালো ঘুম হয় না।”

লিন্ডসে ব্রাউনিং আরও বলেন, “আমি বিশেষত এমন ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করি যাদের ইনসোমনিয়া রয়েছে। এক্ষেত্রে তারা ঘুমাতে চায় কিন্তু তাদের মস্তিষ্ক তেমনটা হতে দেয় না। তাই ইনসোমনিয়া নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিদের এমন ভয়টা আগে কাটাতে হবে যে, এক রাতে খারাপ ঘুম হলেই সেটি অনেক ভয়ংকর কিছু নয়।”

লিন্ডসে ব্রাউনিং নিজেও স্বীকার করেন যে, মোটাদাগে ভাবতে গেলে স্লিপ স্ট্রিম খুব ভালো আইডিয়া নয়। তবে কোনো স্ট্রিমার যদি দুই, তিন সপ্তাহে একবার এটি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করে, তবে খুব বেশি ক্ষতি নেই। কিন্তু বৈদ্যুতিক শকের মতো ব্যাপারগুলো কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে স্লিপ স্ট্রিমিং বিষয়ে স্ট্যানলিমভ বলেন, “মানুষ আরামের জন্য এটা দেখে। ঘুমানোর সময় তারা এমনটা ভাবে যে, তারা একা নয়।”

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়