প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
পল্লী বিদ্যুতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম শহরে রয়েছে নিজস্ব বাড়ি-গাড়ি। নেই শুধু স্ত্রী। তাই স্ত্রী জোগাড়ে ফেসবুকজুড়ে তার ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপন।
শহরে বাড়ি-গাড়ি কিংবা সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কোনোটিই সত্য নয়; মূলত ভুয়া পরিচয় ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে এটি ছিল তার প্রতারণার ফাঁদ। আর সেই ফাঁদে পা দিয়ে নিজের সম্ভ্রম হারিয়ে থানায় মামলা করেছিলেন এক তরুণী। সেই মামলায় ঐ প্রতারককে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন পতেঙ্গা থানার ওসি কবিরুল ইসলাম। এর আগে, বুধবার মীরসরাই উপজেলার শিল্পনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম শিবলী সাদিক নাঈম। তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার যোশর ইউনিয়নের বমটেক গ্রামের একেএম হুমায়ুনের ছেলে। সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে মীরসরাইয়ের শিল্পনগরে নির্মাণাধীন কারখানায় কাজ করতেন তিনি।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামে শিবলীর নির্দিষ্ট কোনো ঘরবাড়ি কিংবা থাকার জায়গা নেই। মীরসরাই, সীতাকুণ্ড ও পতেঙ্গার বিভিন্ন জায়গায় কাজ পাওয়া সাপেক্ষে ভাসমান থাকতেন। ‘আসলাম চৌধুরী’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নিজেকে পল্লী বিদ্যুতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম শহরে নিজস্ব বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে জানিয়ে ‘পাত্রী চাই’ লিখে পোস্ট করেন তিনি। সেখানে ঠিকানা উল্লেখ করেন নেত্রকোনার সদর উপজেলার কাতিরহাট গ্রাম।
সেই বিজ্ঞাপন দেখে শিবলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার ২৭ বছর বয়সী প্রায় বাক প্রতিবন্ধী এক তরুণী। পিতৃহারা সেই তরুণী মায়ের সঙ্গে পতেঙ্গা এলাকায় থাকতেন। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে শিবলীর সঙ্গে কথা হয় তার।
কথাবার্তার একপর্যায়ে বিয়ের কথা বলে গত ১৩ মে ঐ তরুণীকে পতেঙ্গার একটি হোটেলে নিয়ে যান শিবলী। সেখানে তাকে রাতভর আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং পরদিন সকালে মোটরসাইকেলে ফৌজদারহাট আউটার রিং রোডের মুখে নিয়ে যান। যাওয়ার পর তরুণীর সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুতবেগে পালিয়ে যান শিবলী। এ ঘটনায় ১৬ মে পতেঙ্গা থানায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণী।
ওসি কবিরুল ইসলাম বলেন, হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামির চেহারা শনাক্ত করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান চিহ্নিত করে বুধবার রাতে মীরসরাইয়ের শিল্পনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগী তরুণীর কাছ থেকে কেড়ে নেয়া মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
ওসি বলেন, মূলত মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে ফেসবুকে পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া ছিল তার প্রতারণার ফাঁদ। মেয়েদের সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুয়া নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


