Monday, June 29, 2026
spot_img
Homeমুল পাতাফ্রিজ ঠান্ডা হচ্ছে না? এসব যন্ত্র চেক করে দেখুন

ফ্রিজ ঠান্ডা হচ্ছে না? এসব যন্ত্র চেক করে দেখুন

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

ফ্রিজ হঠাৎই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ফ্রিজ ঠান্ডা না হওয়া সাধারণ একটি সমস্যা। তখন মেকানিকদের ডাকতে হয়। ফ্রিজের দক্ষ টেকনিশিয়ার বাসায় ডাকার আছে কিছু বিষয়ে চেক করে দেখতে পারেন। এতে করে আপনার ফ্রিজ ঠিকও হতে পারে। তাছাড়া সময় নিয়ে ফ্রিজের খুঁটিনাটি পরীক্ষা করলে সমস্যা কোথায় বুঝতে পারবেন অনায়াসেই।

​পরীক্ষা করুন সার্কিট ব্রেকার​

রেফ্রিজারেটর প্লাগ ইন করা রয়েছে, অথচ পাওয়ারের কোনও লক্ষণই নেই, তাহলে অবিলম্বে সার্কিট ব্রেকারটি পরীক্ষা করুন। সার্কিট ব্রেকার ঠিক থাকলে, চেক করুন আউটলেটটি। পাওয়ার আউটলেটে পাওয়ার পাচ্ছে কিনা তা দেখতে অন্য কোথাও প্লাগ ইন করে দেখুন। যদি দেখেন তাতেও হচ্ছে না তাহলে টেকনিশিয়ানকে ডাকতে হতে পারে।

এদিকে তাপমাত্রার রেগুলেটরের স্থান ঠিক আছে কিনা তাও দেখে নিন। আজকালকার বেশিরভাগ ফ্রিজেই টেম্পারেচার রেগুলেটার থাকে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীতের জন্য আলাদা আলাদা পয়েন্ট। সেটি সেট করার সময় খেয়াল রাখবেন। রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা সাধারণত ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে সেট করা উচিত।

গ্যাসকেটের সঠিক পরীক্ষা

​রেফ্রিজারেটরের দরজার চারপাশে থাকা গ্যাসকেটগুলো যন্ত্রের ভিতরে ঠান্ডা বাতাস ধরে রাখতে সাহায্য করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দরজার গ্যাসকেট আলগা হয়ে যেতে পারে। সেটি ঠিক আছে কিনা তা দেখাও জরুরি। তাই তার সিল পরীক্ষা করতে পেপার টেস্ট করে নিন। দরজা বন্ধের সময় খাঁজে একটি ভাঁজ করা কাগজের টুকরো দিয়ে ফ্রিজ বন্ধ করুন। তারপর কাগজটি টান দিয়ে বের করুন। কাগজ বেরিয়ে এলে বুঝবেন গ্যাসকেট বদলানোর সময় এসে গেছে।

বায়ুপ্রবাহে বাধা হলে

রেফ্রিজারেটরের ভিতর ফ্রিজার কম্পার্টমেন্ট এবং রেফ্রিজারেটরের বগির মধ্যে চলা ভেন্টের মাধ্যমে ঠান্ডা বাতাস সঞ্চালন করে। ভেন্টগুলো কোনওভাবে অবরুদ্ধ থাকলে বায়ুপ্রবাহ হ্রাস পাবে। ফলে তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার সমস্যা দেখা দেবে। এই ভেন্টের অবস্থান রেফ্রিজারেটরের মডেলের ওপর নির্ভর করে। রেফ্রিজারেটরের ম্যানুয়ালে ভেন্টের প্রকৃতি এবং ব্লকিং সম্পর্কে লেখা থাকবে।

এদিকে ভালো করে ফ্রিজটা দেখে নেওয়াও জরুরি। সেখানে প্রয়োজনের থেকে বেশি জিনিস ঢুকিয়েছেন কিনা খেয়াল রাখুন। অত্যাধিক জিনিসপত্র রাখলে ফ্রিজ ঠান্ডা হতে সময় নেয় বা তা ঠান্ডা করতে পারে না। তাই ফ্রিজে ঠেসে ঠুসে জিনিস রাখবেন না।

কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার করা

অনেক সময়, পরিষ্কারের অভাবেও ফ্রিজের ভিতরটা ঠান্ডা হয় না। মূলত কনডেন্সার কয়েলে ময়লা জমার ফলেই এই সমস্যা হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর কনডেন্সার কয়েলটি পরিষ্কার করা দরকার। কনডেন্সার কয়েল হল রেফ্রিজারেটরের পিছনের জাল। এই জালে ধুলো এবং ময়লা আটকে গেলে ফ্রিজ ঠান্ডা হয় না। যা নরম ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সাহায্যে এই স্থান পরিষ্কার করা যায়।

এদিকে ফ্রিজারে বরফ জমেও ভেন্ট ব্লকেজ হতে পারে। এই কারণেও ফ্রিজ ঠান্ডা হয় না। সময় মতো ফ্রিজ ডিফ্রস্ট না করলে এই সমস্যা হবেই। তাই রাতে ঘুমোবার আগে ফ্রিজ-ফ্রস্টে দিয়ে দিন। বরফ সম্পূর্ণ গলে যাবে। এবং ফ্রিজ আগের মতোই ঠান্ডা হবে।

​ইভাপোরেটর ফ্যান ভাঙার বিপদ​

ইভাপোরেটর কয়েল থেকে শীতল বাতাস টেনে নিয়ে পুরো ইউনিট জুড়ে সঞ্চালিত করে ইভাপোরেটর ফ্যান। ইভাপোরেটর ফ্যানের মোটর যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে ঠিকমতো বাতাস চলাচল করতে পারে না। ইভাপোরেটর ফ্যানটি কাজ না করলে, সেটি অবিলম্বে পালটাতে হবে। আবার ইভাপোরেটর ফ্যান সঠিকভাবে কাজ না করলে, কয়েলগুলো হিম হয়ে যাবে। কয়েলে বরফ জমছে কিনা তা জানতে রেফ্রিজারেটর থেকে পিছনের প্যানেলটি সরাতে হবে।

তবে টেকনিক্যাল জ্ঞান একদম না থাকলে একা একা বৈদ্যুতিন জিনিস ঠিক বা পরীক্ষা করাটা বেশ ঝুঁকির। যে কোনও মুহূর্তে বিপদ আসতে পারেন। তাই রেফ্রিজারেটর ব্যবহারে সচেতন থাকুন। পেশাদার এবং অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়