শনিবার, মে ২, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতাচট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী সেই নেতার পদ স্থগিত

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী সেই নেতার পদ স্থগিত

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে ‘মব’ তৈরি করে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের কর্মচারী ও জামায়াত নেতা নওশেদ জামালকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর কমিটির সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিনের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সংগঠনটি। সেই সঙ্গে তাঁকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৫ জুলাই) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক শোকজ নোটিশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রশিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনামের নির্দেশনায় ওই শোকজ নোটিশ দেওয়া হলো।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ—সংগঠনের নীতিমালা ও শৃঙ্খলা-পরিপন্থী কিছু কার্যকলাপে জড়িত হয়েছেন। একজন দায়িত্বশীল পদধারী সদস্যসচিব হিসেবে এই ধরনের কর্মকাণ্ড সংগঠনের ভাবমূর্তি ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজাম উদ্দিনের সংগঠনের সদস্যসচিব পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে একই সঙ্গে নিজাম উদ্দিনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে কেন বহিষ্কার করা হবে না—সে বিষয়ে একটি লিখিত ব্যাখ্যা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে সংগঠন নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নগরের ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ এলাকায় মেঘনা পেট্রোলিয়াম কার্যালয়ের সামনে থেকে নওশেদ জামালকে ধরে কোতোয়ালি থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরিচয়ধারী নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁকে কোতোয়ালি পুলিশের হাতে তুলে দিলে সেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নওশেদকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ওই ঘটনার পর শনিবার নওশেদের স্ত্রী রিয়াজুল জান্নাত নগর পুলিশ কমিশনার বরাবরে একটি অভিযোগ করেন। সেখানে উল্লেখ করেন, দুই কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর কমিটির সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশকে যড়যন্ত্রমূলত তাঁর স্বামী নওশেদ জামালকে ফাঁসিয়েছেন।

রিয়াজুল জান্নাত দাবি করেন, তাঁর স্বামী নওশেদ জামাল চট্টগ্রামে মেঘনা পেট্রোলিয়াম এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর একজন রুকন। তিনি জামায়াতের বাগমনিরাম দক্ষিণ সাংগঠনিক ওয়ার্ডে সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি তাঁর স্বামীর কাছে চাঁদা দাবি করছে। দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর স্বামীকে ফাঁসাতে নানা চক্রান্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেন রিয়াজুল জান্নাত।

অভিযোগের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর কমিটির সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন  বলেন, ‘যিনি পুলিশের কাছে এই অভিযোগ করেছেন, তিনি যদি আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির ন্যূনতম কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেন—তাহলে আমি স্বেচ্ছায় নিজেকে আইনের হাতে সোপর্দ করব।

প্রয়োজনে আমার নামে একাধিক মামলা হবে। আমার কোনো আপত্তি থাকবে না। আর উনি যদি কোনো প্রমাণ দেখাতে না পারেন, তাহলে এমন অভিযোগের জন্য আমি আইনের আশ্রয় নেব। কারণ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগরের একজন নেতা হিসেবে আমার সম্মানহানির অর্থ পুরো বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মের সম্মানহানি করা।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল করিম  বলেন, ‘টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে এই ধরনের অভিযোগ কেউ দিয়ে থাকেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়