প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ভারত বাংলাদেশের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। গতকাল ভারতের রাজ্যসভায় পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ নামে একটি কথিত মানচিত্র প্রসঙ্গে লিখিত প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর এ কথা বলেন। তিনি জানান, এ ইস্যুতে ভারত সতর্কভাবে নজরদারি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
জয়শঙ্কর জানান, বাংলাদেশে তুরস্কভিত্তিক এনজিও ‘টার্কিশ ইয়ুথ ফেডারেশন’-এর সহায়তায় পরিচালিত ‘সালতানাত-এ-বাংলা’ নামের ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ওই বিতর্কিত মানচিত্র প্রকাশ করে। এতে ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মণিপুর এবং অরুণাচল প্রদেশসহ মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চল পর্যন্ত ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’-এর অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মানচিত্রটি চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয় বলে দাবি করেন জয়শঙ্কর।
জয়শঙ্করের মন্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের তথ্য যাচাইকারী প্লাটফর্ম ‘বাংলা ফ্যাক্ট’ নিশ্চিত করেছে যে ‘সালতানাত-এ-বাংলা’ নামে কোনো সংগঠনের অস্তিত্বের প্রমাণ তাদের কাছে নেই। বাংলা ফ্যাক্ট আরো জানায়, যে মানচিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে তা ঐতিহাসিক ‘বঙ্গ সালতানাত’-এর রেফারেন্সে একটি প্রদর্শনীর অংশ ছিল। যার সঙ্গে কোনো আধুনিক রাজনৈতিক অভিপ্রায় বা বিদেশী রাজনৈতিক সংযোগ নেই। একই সঙ্গে আয়োজকরা তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো বিদেশী রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পর্ক থাকার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।
ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ইকোনমিক টাইমস দাবি করেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তুরস্ক বাংলাদেশে তাদের প্রভাব জোরদার করতে তৎপর হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রেক্ষাপটে এ তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তুরস্ক বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। তুরস্ক-সমর্থিত এনজিওগুলো বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় তুরস্ক পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল, যার ফলে ভারতে তুর্কি পণ্যের বয়কটের ডাক উঠেছিল।
এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


