প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রামের হাটহাজারীর উত্তর মেখলে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় উঠে এসেছে ছোট সাজ্জাদ বাহিনীর নাম। চাঁদা চেয়ে ব্যবসায়ীকে ফোন করেছিল বাহিনীর সদস্য মোবারক হোসেন ইমন।
পুলিশ জানিয়েছে, ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর গ্রামের মোহাম্মদ মুসার ছেলে ইমনের বিরুদ্ধে নগরের বাকলিয়া থানায় জোড়া খুনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। যে মামলায় সাজ্জাদ ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছে। সাজ্জাদ কারাগারে থাকলেও তার বাহিনী চট্টগ্রামে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ফোনে চাঁদা চেয়ে না পেলে গুলি চালানো তাদের নিয়মে পরিণত হয়েছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনায় সাজ্জাদ বাহিনীর ইমন ও আরেক সন্ত্রাসী রায়হানের নাম উঠে এলেও পুলিশ তাদের ধরতে পারছে না। ছোট সাজ্জাদ বিদেশে পলাতক আরেক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী।
এদিকে গুলি চালানোর ঘটনার এক দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ঘটনায় মামলা করেছেন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তাঁর পরিবার। পুলিশ বলছে, অভিযান চলছে।
ফের হুমকি
ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১৫ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে না দিলে ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। গত বুধবার হাটহাজারী উত্তর মেখলের বাড়িতে প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয়। ঘটনার পর ‘এটি স্যাম্পল’ বলে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে ফের হুমকি দেয়।
জাহাঙ্গীর আরও জানান, ইমন নামে এক যুবক চাঁদা চেয়েছিল। তাঁর সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের মতো কথা হয়েছে। তিনি ততটা পাত্তা দেননি। বুধবার বাড়িতে গুলি চালানোর পর তিনি ভড়কে যান। এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি করার মিশনে ছয়জন ছিল। এখন পর্যন্ত এ ঘটনার সঙ্গে ইমনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। তাকেসহ কয়েকজনকে শনাক্তের পর গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ সমকালকে বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
চাঁদা না পেলেই গুলি সাজ্জাদ বাহিনীর
গত ১ আগস্ট রাতে নগরের উত্তর মোহরা এলাকায় ব্যবসায়ী মো. ইউনুসকে ১৭ রাউন্ড গুলি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ব্যবসায়ী ইউনূসের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। এই টাকা না দেওয়ায় সাজ্জাদের অনুসারীরা তাঁকে গুলি করে। এ ঘটনায় নুরুল হক নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও অধরা থেকে যায় বাহিনীর অন্য সদস্যরা।
গত ২৯ মার্চ রাতে নগরের বাকলিয়া অ্যাক্সেস রোডে প্রাইভেটকার ধাওয়া করে গুলি করে দুজনকে হত্যা করা হয়। আরেক সন্ত্রাসী সারোয়ার হোসেন বাবলার সঙ্গে ছোট সাজ্জাদের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্নাসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা হয়। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে ইমন ও রায়হান।
গত ২৩ মে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী আকবর আলী ওরফে ঢাকাইয়া আকবরকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুনের মামলার আসামি রায়হান। আকবরকে আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রায়হান তাঁকে গুলি করেছে বলে জানিয়ে যায়। গত ১৩ জুলাই রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের ইশান ভট্টের হাটে বোরকা পরে এসে যুবদল নেতা মোহাম্মদ সেলিমকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। এই হত্যার সঙ্গেও রায়হানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ২২ এপ্রিল রাউজানের গাজীপাড়ায় যুবদলকর্মী ইব্রাহিমকে গুলি করে হত্যা, গত বছর ২৯ আগস্ট নগরের অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের পশ্চিম কুয়াইশে দুই বন্ধু মাসুদ ও আনিছকে হত্যা, একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁওয়ে ইট-বালুর ব্যবসায়ী মো. তাহসীনকে হত্যায়ও ইমন ও রায়হানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।


