প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
পৃথিবীর অষ্টম শীর্ষ পর্বত মানাসলু জয় করেছেন বাবর আলী। বাংলাদেশ সময় আজ ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে ২৬ হাজার ৭৮১ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়ের চূড়ায় উঠেন তিনি। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়।
এটি এভারেস্ট, লোৎসে, অন্নপূর্ণা-১ এর পর বাবর আলীর চতুর্থ আটহাজারি শৃঙ্গ সামিট। এটি বাংলাদেশি পর্বতারোহীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক আটহাজারি শিখর সামিটের দৃষ্টান্ত।
উল্লেখ্য, এম এ মুহিত এ পর্যন্ত তিনটি আটহাজারি পর্বতের শিখরে চারবার সামিট করেছেন।
বাবর আলীর পর্বতাভিযানের তথ্য আপডেট দেওয়া ভার্টিকাল ড্রিমার জানায়, মানাসলু পর্বতের শিখরে বাবরের সঙ্গে ছিলেন তার দীর্ঘদিনের পর্বতসাথী (গাইড) বীরে তামাং। এবার বাবর আলীর নিরাপদে নেমে আসাটা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। এ যাত্রাতে বাবর অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার না করায় ঝুঁকির মাত্রাটাও একটু বেশি। অভিযানে তাকে সহায়তা করেছে- এসএএম বন্ড, ভিজ্যুয়াল নিটওয়ার্স লিমিটেড, অরাস ও চন্দ্রবিন্দু।
২০২৪ সালে ষষ্ঠ বাংলাদেশি হিসেবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন বাবর আলী। এভারেস্টে প্রথম অভিযান পরিচালিত হয় আজ থেকে শতাধিক বছর আগে। ১৯৫৩ সালের ২৯ মে নেপালের শেরপা তেনজিং নোরগেকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছিলেন নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী এডমন্ড হিলারি। আর ২০১০ সালের ২৩ মে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্টের শীর্ষে ওঠেন মুসা ইব্রাহীম। এরপর ২০১১ ও ২০১২ সালে দুবার এভারেস্ট জয় করেন এম এ মুহিত। প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালের ১৯ মে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন নিশাত মজুমদার। একই মাসের ২৬ মে ওয়াসফিয়া নাজরীন জয় করেন এভারেস্ট। ২০১৩ সালের ২০ মে এভারেস্টজয়ী পঞ্চম বাংলাদেশি সজল খালেদ এভারেস্টচূড়া থেকে নেমে আসার সময় মারা যান।
২০১৩ সালের পর বাংলাদেশি পর্বতারোহীদের এভারেস্ট অভিযানে নেমে আসে খরা। ১১ বছর পর ২০২৪ সালে সেই খরা কাটিয়ে এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়ান বাবর আলী। একই অভিযানে তিনি জয় করেন এভারেস্টের সঙ্গে লাগোয়া পৃথিবীর চতুর্থ শীর্ষ পর্বত লোৎসেও। সেবার প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এক সাথে দুটি পর্বত জয় করেন বাবর আলী।


