বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতাসংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার : রোবায়েত ফেরদৌস

সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার : রোবায়েত ফেরদৌস

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

অন্তর্বর্তী সরকার গত দেড় বছরে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।

তিনি বলেন, ‘১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন হচ্ছে, বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানকে স্থায়ীভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিককে পরিণত করে দেওয়া হয়েছে। তারা স্থায়ীভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক পরিণত হয়েছে।’

রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রামের রাউজান ও মিরসরাইয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পরিদর্শন শেষে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ‘সিটিজেনস অব হিউম্যান রাইটস’।
চট্টগ্রামের রাউজান ও মিরসরাইয়ে সম্প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীর অন্তত ১৯টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাতের বেলা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে এসব অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে এমন ‘নির্মম ঘটনার’ প্রসঙ্গ তুলে রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা দেখেছি মিরসরাইয়ে ডাকাতি করেনি, কিচ্ছু নিয়ে যায়নি।

বাইরে থেকে ছিটকিনি দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তার মানে একটা প্যানিক তৈরি করা। আবারও পুড়িয়ে মারার চেষ্টা। ভয় তৈরি করা, যেন এরা ভোটে না যায়।


তার ভাষ্য, “আবার ভোট দিতে না গেলে একটা বিশেষ পলিটিক্যাল পার্টির সঙ্গে যুক্ত করে বলা হবে এই কারণে নির্বাচন বয়কট করেছে। আবার হেরে যাওয়া প্রার্থীরাও বলেন, ‘তোমার কারণে আমি পার হতে পারিনি’।”

এই ‘দ্বিমুখী প্যারাডক্সে’ সংখ্যালঘুরা রয়েছেন মন্তব্য করে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘ভোটের কথা আপনি বলছেন, সে যে ভোটে যাবে তার নিরাপত্তা দিতে হবে এবং ফিরে এসে সে তার বাসায় থাকতে পারবে কি না।’

তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে ঘুষ ও তদবির সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনের ব্যর্থতা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতাকে আরো উসকে দিয়েছে। রাষ্ট্র, আইন ও প্রশাসন প্রান্তিক মানুষের থেকে দূরে সরে গেলে অসহায় মানুষের কাছে ঈশ্বরকে বিচার দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।

’‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্ম শান্তিতে পালন করা যায়নি এই ১৮ মাসে। আমরা দেখলাম—অন্য ধর্ম শান্তিতে পালন করা যায় না।’

সিটিজেনস অব হিউম্যান রাইটসের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন লিখিত বক্তব্যে রাউজান ও মিরসরাইয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনায় প্রতীয়মান হয় যে এ পরিবারগুলোর সবাইকে পুড়িয়ে মারাই ছিল অগ্নিসংযোগকারীদের উদ্দেশ্য। এসব এলাকার সনাতন ধর্মের মানুষ এখন রাত জেগে পাহারা দিয়ে পালাক্রমে ঘুমাচ্ছেন এবং নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে এলাকা পর্যবেক্ষণ করছেন।’

‘নির্বাচনের পূর্বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এমন সহিংসতা ঘটানোর মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত রাখা।’

জাকির তার সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে—

ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বিশেষ কার্যকরী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা এবং এ বিষয়টি নিয়মিত তদারকির জন্য উচ্চ-পর্যায়ের একটি বিশেষ কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক সেল গঠন করা;

রাউজান ও মিরসরাই দেশের বিভিন্নস্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত সব ধরনের সহিংসতার তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা;

ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক আঘাত দূরীকরণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

মানবাধিকার কমিশন যাতে এ বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নজরদারিতে রাখেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

সিটিজেনস অব হিউম্যান রাইটসের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন তার বক্তব্যে নির্বাচনমুখী সব রাজনৈতিক দলের প্রতি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য এবং নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তা দিতে ‘সক্রিয় ভূমিকা’ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়