রবিবার, মে ৩, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতাপাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতের নাম বহাল রেখেই সংসদে জামুকা বিল পাস

পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতের নাম বহাল রেখেই সংসদে জামুকা বিল পাস

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর নাম বহাল রেখেই বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

সংশোধিত এই আইনে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং নেজামে ইসলামকে সেই সময়ের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন।

সংসদ অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান এই বিলটি পেশ করেন। পরে এটি কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

যদিও এতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আপত্তি জানিয়ে বক্তব্য তুললেও তবে তাদের জোটসঙ্গী এনসিপিপক্ষ থেকে এই বিলের ওপর কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানানো হয়।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২-এর বিদ্যমান সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগী—রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন—এমন সব বেসামরিক নাগরিক, যাদের বয়স ওই সময়ে সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন সীমার মধ্যে ছিল; তারা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।’

সংসদে আপত্তি জানানোর সুযোগ পেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তবে তিনি বিলের নির্দিষ্ট কোনো ধারায় সংশোধনী প্রস্তাব তোলেননি।

সংজ্ঞা নিয়ে আপত্তি তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামের নাম স্বাধীনতার পরে তখনকার শাসকও আনেন নাই। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও আনেন নাই। তিনবারের অতি সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) তিনিও আনেন নাই। এ জিনিসটা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ফ্যাসিস্টের বিকৃত একজন প্রতিভূ শেখ হাসিনা এবং পরবর্তী পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে সামান্য পরিবর্তনসহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কী আছে এখানে? তৎকালীন তিনটা সংগঠনের নাম নেওয়া হয়েছে—তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পার্টি। পাক সেনাবাহিনীর সাথে আরও কিছু অক্সিলারি ফোর্সের সাথে তিনটা রাজনৈতিক দলের নাম এসেছে এবং বর্তমান উপস্থাপনায় বা প্রস্তাবনায় তৎকালীন এই তিন সংগঠনের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন, একাত্তরের ওই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, আল্লাহ তাআলা তার নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ একমাত্র সাক্ষী। আমরা যারা আছি তারা আংশিক সাক্ষী। আমরা চাই প্রিয় বাংলাদেশ রাজনীতির সুস্থ ধারায় জনগণের প্রতি দায় এবং দরদ নিয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে এই দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক সংগঠন তার কার্যক্রম পরিচালনা করুক।’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়