প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে আজ শনিবার বিকালে অনুষ্ঠিত হবে জব্বারের বলীখেলা। এজন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মঞ্চ। আজকেই শেষ হবে বলীখেলা উপলক্ষে আয়োজিত বৈশাখী মেলার। মেলায় পুরুষদের আধিক্য থাকলেও পিছিয়ে নেই নারীরাও। মেলায় কেনাকাটা করছেন বিভিন্ন বয়সী নারী।
শনিবার ভোর থেকেই নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে মেলার সর্বত্র। লালদীঘি মাঠকে কেন্দ্র করে আন্দরকিল্লা মোড় থেকে কোতোয়ালি মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত সড়ক জুড়ে অস্থায়ী দোকান বসিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ব্যবসায়ীরা।
দোকানে দোকানে ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে ভিড় করতে দেখা গেছে নারী দর্শনার্থীকে। মেলায় ভোর থেকে অনেক রাত পর্যন্তই ক্রেতার ভিড় লেগেই থাকে।
মেলায় ঘুরতে এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী জয়িতা।
তিনি বললেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই প্রতি বছর এই মেলায় আসি। এই মেলা চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি আবেগের জায়গা। মাটির বিভিন্ন জিনিসের প্রতি আগ্রহ বেশি আমার। গতবার প্রায় ৭ হাজার টাকার মাটির জিনিস কিনেছি।’
গৃহস্থালির কাজের প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র পাওয়া যায় এমন একটি দোকানের সামনে পাওয়া গেল বৈশাখী দেবকে। বিভিন্ন জিনিস কেনায় ব্যস্ত তিনি।
বৈশাখী জানান, ঘরের প্রয়োজনীয় সব জিনিস এখানে মোটামুটি কম দামে পাওয়া যায়। তাই প্রতি বছর মেলায় এসে দরকারী জিনিসগুলো এখান থেকে কিনে নিয়ে যাই।
দোকানগুলোতে কী নেই ?
মাটির তৈজসপত্র, বেত-কাঠ ও বাঁশের তৈরি নানা আসবাব, ঝাড়ু, হাতপাখা, শীতলপাটি, খুন্তি, প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী, ফুল, ফুলদানি, কাঠ ও প্লাস্টিকের পুতুল, মুড়ি-মুড়কি, মণ্ডা-মিঠাই, গৃহসজ্জার সামগ্রী, কুলা, চালুনি, রুটি বেলার পিঁড়ি, গাছের চারা, তামা-কাঁসা-পিতলের সামগ্রী, কাঠের আসবাব, বেতের আসবাব, পিঠা তৈরির বিভিন্ন নকশার ডায়াস, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য যেমন পাটের শিকা, দোলনা, থলে, টেবিল ম্যাট, বাদ্যযন্ত্র, মেলামাইন ও সিরামিকের বিভিন্ন ক্রোকারিজ সামগ্রী, কসমেটিকস, চুড়ি, গয়নাসহ বিভিন্ন দ্রব্য, টমটম গাড়ি, বাঁশি, উড়োজাহাজ, মুখোশ, নৌকা, ডালা, কুলা, মোড়া, পিঁড়ি, দা-বঁটি, ছুরিসহ গৃহস্থালির সব ধরনের সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে।
দোকানিরা জানান, দুই দিনব্যাপী মেলা হলেও তারা প্রতি বছর মেলার দুই দিন আগে থেকেই দোকান সাজাতে শুরু করেন। তখন থেকেই একটু একটু করে বেচাবিক্রি শুরু হয়।
ঢাকা থেকে মাটির প্রায় ৬০ রকমের বিভিন্ন জিনিসপত্র এনেছেন সাধন পাল। তিনি জানান, ‘এবার প্রায় সাত লাখ টাকার মাল এনেছি। বিক্রিও ভালো। মেলা শুরুর আগের দিন থেকেই বিক্রি হচ্ছে।’
কুমিল্লা থেকে বিভিন্ন খাবারের পসরা নিয়ে বসেছেন আমিন।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের পরিবারের সবাই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দেশের যেখানে মেলা হয়, আমরা সেখানে যাই। বাপ-দাদার আমল থেকে জব্বারের বলীখেলায় প্রতি বছর আসি।’


