প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
৭ দিন আগে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সুমন আহমেদের মৃত্যুতে স্ত্রী রোকশানা বেগম অসহায় হয়ে পড়েন।সিলেটের বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামে থাকেন রোকশানা।
স্বামী ছিলেন রিকশাচালক। প্রতিদিনের আয়েই চলত চার সদস্যের সংসার।
কিন্তু প্রায় তিন মাস ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকার পর ৩৭ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
স্বামীর মৃত্যুর পর দুই শিশুসন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন রোকশানা।
বড় মেয়ে আয়েশা আক্তারের বয়স মাত্র ৮ বছর। ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনের বয়স ৩ বছর।
বাবার মৃত্যুর পর তারা হয়তো এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারেনি কী হারিয়েছে। কিন্তু সংসারের বাস্তবতা দ্রুতই বুঝিয়ে দিচ্ছিল, সামনে অপেক্ষা করছে অনিশ্চিত এক পথ। স্বামীর চিকিৎসার পেছনে যা সামান্য সঞ্চয় ছিল, তা আগেই শেষ হয়ে যায়। মৃত্যুর পর বাসাভাড়া, খাবার, সন্তানদের প্রয়োজনীয় খরচ ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো রোকশানার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
আত্মীয়স্বজনের সীমিত সহায়তায় কয়েক দিন চললেও দীর্ঘমেয়াদে সেই সহায়তা যে যথেষ্ট নয়, তা বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। অবশেষে শেষ আশ্রয় হিসেবে সহায়তার আবেদন করেন সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে আছেন। সংসার চালানোর মতো কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। মানবিক বিবেচনায় আর্থিক সহায়তা ও সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানান তিনি।
রোকশানার আবেদনপত্রের প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠেছিল সদ্য স্বামীহারা এক নারীর অসহায়ত্ব, দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের নির্মম বাস্তবতা।
আবেদনটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নজরে এলে তিনি বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করেন। বৃহস্পতিবার(১৮ জুন) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোকশানা বেগমকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
রোকশানা বেগম বলেন, ডিসি স্যারের কাছে আজই আবেদন নিয়ে দেখা করেছিলাম। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও স্যার ১০-১৫ মিনিট সময় নিয়ে আমার সব কথা শুনেছেন। আমার সংসার কীভাবে চলছে, আমার সন্তানদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক মানুষের কাছে গিয়েছি, কিন্তু কেউ সেভাবে পাশে দাঁড়াননি। কিন্তু ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করার পরপরই তিনি আমাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, রোকশানার জন্য এই সহায়তা হয়তো তাঁর সব সমস্যার সমাধান নয়। কিন্তু স্বামী হারানোর পর যখন চারপাশ অন্ধকার মনে হচ্ছিল, তখন এই সহায়তা তাঁকে অন্তত একটি বার্তা দিয়েছে—তিনি একা নন।
তিনি আরও বলেন, কখনো কখনো একটি আবেদনপত্র শুধু সাহায্য চাওয়ার কাগজ নয়; সেটি হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা। সেই চেষ্টার প্রতি সাড়া দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব।
১৭ দিনের ব্যবধানে স্বামীকে হারিয়ে জীবনসংগ্রামের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা রোকশানার জন্য এই সহায়তা হয়তো সাময়িক স্বস্তি। তবে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে তাঁর দীর্ঘ পথচলা এখনো বাকি। আর সেই পথচলার শুরুতে প্রশাসনের এই সহায়তা তাঁকে অন্তত নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে।


