চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ‘গণপিটুনিতে’ মোহাম্মদ নুর ইসলাম ইরান নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তার বাড়িতে আগুনও দিয়েছেন ক্ষুব্ধ জনতা।
পুলিশের ভাষ্য, ওই ব্যক্তি একজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি ছিলেন। নিজেদের মধ্যে বিরোধের জেরে গত চার মাসে দুই সহযোগীকে হত্যার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়।
গতকাল শনিবার গভীর রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ নুর ইসলাম ইরান উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
পুলিশের তথ্য, চার মাসের ব্যবধানে একই এলাকার বাসিন্দা এক যুবক ও এক কিশোর মারধরে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। নাঈম উদ্দিন নামে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর গত ১৯ জুলাই আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল শনিবার তার মৃত্যু হয়েছে। গত এপ্রিলে একইভাবে শামীম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
নাঈম ও শামীম ইয়াবা কারবারি নুর ইসলামের সহযোগী ছিলেন বলে জানালেন সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম। বললেন, ‘নুর ইসলামের ইয়াবা নাঈম ও শামীম বিভিন্নস্থানে দিয়ে আসত। বিক্রিও করত। নুর ইসলামের সঙ্গে কয়েকমাস আগে শামীমের বিরোধ হয়। নিজের নিয়ন্ত্রণ করা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে তাকে বেধড়কভাবে মারধর করা হয়। এতে শামীম মারা যায়।’
‘এরপর কয়েকদিন আগে নাঈমের বিরুদ্ধে ইয়াবা চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে মারধর করা হয়। গতকাল তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়নি। মৃত্যুর পর গতকাল নাঈমের বাবা নুর ইসলামকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন। শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায়ও প্রধান আসামি এ নুর ইসলাম।’
দুজনের মৃত্যু নিয়ে এলাকাবাসী নুর ইসলামের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও জানালেন ওসি, ‘নাঈমের মৃত্যুর খবর জানার পর নুর ইসলাম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আমরা সাগরপাড়ে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান শুরু করি। তবে বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে তাকে ধরতে পারিনি। এর মধ্যে এলাকাবাসী বাদশা ও আলতাফ নামে তার দুই সহযোগীকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।’
‘রাত দেড়টার দিকে নুর ইসলাম এলাকায় আসে। তখন এলাকার লোকজন তাকে দেখে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসব ঘটনার মধ্যে কে বা কারা তার বসতঘরে আগুন দেয়।’ – বললেন ওসি মহিনুল ইসলাম।


