প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ টিকিট কালোবাজারি বন্ধে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রেল মন্ত্রণালয়। একই সাথে সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।
আজ শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনে থেকে সান্তাহার ভায়া রংপুর-বগুড়া রেলপথে আন্তনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, স্টেশনে আর টিকিট থাকছে না।
সব টিকিট ঘরে বসেই কিনতে পারবেন যাত্রীরা। এনআইডি দিয়ে টিকিট কিনতে হবে। টিকিট যার নামে তিনিই কেবল ভ্রমণ করতে পারবেন। এতে করে কালোবাজারি এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, একটি ভারসাম্যমূলক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। রেলের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বাজেটেও ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলোকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার কাজ চলছে। টঙ্গী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ডাবল লাইনকে চার লাইনে উন্নীত করার কাজ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলো ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়।
মিটারগেইজ রেলপথগুলোকে ব্রডগেইজে রূপান্তরের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা হয়ে নিউ জলপাইগুঁড়ি স্টেশন পর্যন্ত রেল কানেক্টিভিটি স্থাপনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের রেলযোগাযোগ স্থাপিত হবে। প্রকল্পটির ফাইল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেখান থেকে পাশ হলেই একনেকে তোলা হবে। একনেকে অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দাতা প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া ভারতের সাথে বাংলাদেশের ৮ টি ইন্টারসেকশন পয়েন্ট দিয়ে রেলযোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৩ সালের জুনের মধ্যে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলযোগাযোগ চালু করা হবে বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে ৫ তলা ভবন নির্মিত হবে। সেখানে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, কমিউনিটি সেন্টারসহ আধুনিক সুযোগ সুবিধা যোগ করা হবে।
পরে মন্ত্রী বাঁশি বাজিয়ে ও পতাকা নাড়িয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনে থেকে সান্তাহার ভায়া রংপুর-বগুড়া রেলপথে আন্তনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেন। ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৬টায় পঞ্চগড় ছেড়ে বিকেল ৪টায় সান্তাহার পৌঁছাবে এবং সান্তাহার থেকে সকাল ১১টায় ছেড়ে রাত ৮টা ২০ মিনিটে পঞ্চগড় পৌছাবে। দুটি রেক দিয়ে দুই প্রান্ত থেকে প্রতিদিন চলাচল করবে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস।
এর আগে ট্রেনটি সান্তাহার থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত চলাচল করত। এ ছাড়া স্টেশনে কার পার্কিং এরিয়া, অ্যাপ্রোচ রোড ও দৃষ্টিনন্দন গেইটের ফলক উন্মোচন করেন মন্ত্রী। এ সময় অন্যদের মধ্যে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার, জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলামসহ রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


