রবিবার, মে ৩, ২০২৬
spot_img
Homeসংবাদখুলনায় বিএনপির গণসমাবেশ : নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়ছে সমাবেশস্থলে

খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশ : নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়ছে সমাবেশস্থলে

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

খুলনা নগরের ফেরিঘাট মোড়ের সোনালী ব্যাংক চত্বরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ আজ শনিবার বিকেল ৩টায়। শুক্রবার রাত থেকেই সমাবেশস্থলে হাজারো মানুষ উপস্থিত হয়েছে। রাতে যারা ট্রেনে, নৌপথে ট্রলারে (ইঞ্জিনচালিত নৌকা) চেপে খুলনায় পৌঁছেছেন তারা সমাবেশস্থলেই ছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন।

এদিকে দুই দিনের বাস ধর্মঘট, ২৪ ঘণ্টার লঞ্চ ধর্মঘট, শুক্রবার রাত থেকেই নগরের পাশের রূপসা ঘাটে পারাপারের নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় কার্যত খুলনা নগর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবুও ট্রেন, নৌকা, ট্রলার, নিজস্ব যানবাহনে, পায়ে হেঁটে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশস্থলে আসছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, সব বাধা পেরিয়ে সমাবেশ ‘জনস্রোতে’ পরিণত হবে।

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে, জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতাকর্মী হত্যা, হামলা এবং মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়েছে এই গণসমাবেশ। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্য দেবেন কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারা। গণসমাবেশে যোগ দিতে শুক্রবার রাতেই খুলনায় পৌঁছেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা গেছে, মঞ্চের সামনে অবস্থান নিয়ে আছেন শত শত নেতাকর্মী। ছোট ছোট দলে আসছেন নেতাকর্মীরা। সমাবেশমঞ্চ থেকে শিববাড়ি মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে টানানো হয়েছে ১২০টি মাইক। ৮টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে প্রজেক্টর।

খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শফিকুল আলম তুহিন জানান, সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। সমাবেশের সময় থাকবে ড্রোন ক্যামেরার নজরদারি। এ ছাড়া সমাবেশের শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করবেন ৪০০ স্বেচ্ছাসেবক।

সমাবেশস্থল রাতেই দখলে নেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সারা রাত তারা সেখানেই কাটিয়েছেন। গল্প-আড্ডা, গান আর স্লোগানে এলাকা ছিল মুখরিত। অনেকেই ফেসবুক লাইভে তাদের অবস্থান জানান দিয়েছেন। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে সমাবেশস্থলে। সমাবেশমঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ বাস্তবায়নে গঠিত মিডিয়া উপকমিটির আহ্বায়ক এহতেশামুল হক শাওন বলেন, শত বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশস্থলে এসে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। বহু বাধা কাটিয়ে এখানে আসতে পেরে তারা আনন্দিত। অনেক কষ্ট করে তারা এসেছেন। বিকেলে সমাবেশ, সেই সমাবেশ শুরুর আগেভাগেই সমাবেশস্থল পূর্ণ করেছেন। রাতে শুয়ে-বসে, আড্ডায়-গল্পে, বক্তব্য শুনে তাদের সময় কাটছে।

শুক্রবার রাত ১০টায় দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে শত শত নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে যান। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাবেশস্থল পরিদর্শন করে হোটেলে যান। এরপর সেখানে মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

সমাবেশ ঘিরে যেমন রয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা, তেমনই রয়েছে ভোগান্তি। বন্ধ রয়েছে বাস, লঞ্চ ও খেয়াঘাট। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দূর-দূরান্ত থেকে সমাবেশে আসতে ভরসা করতে হচ্ছে ট্রেন, ট্রলার, ইজিবাইক, সিএনজি ও ভ্যানের ওপর। অনেকে পায়ে হেঁটে সমাবেশস্থলে আসছেন।

বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, সমাবেশে যাতে নেতাকর্মীরা অংশ নিতে না পারেন তাই বন্ধ বাস, লঞ্চ, এমনকি খেয়াঘাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রেনে পাথর ছোড়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়