Wednesday, June 24, 2026
spot_img
Homeসংবাদবান্দরবানে শারক্বীয়া’র প্রধান অস্ত্র সরববরাহসহ গ্রেফতার ৩

বান্দরবানে শারক্বীয়া’র প্রধান অস্ত্র সরববরাহসহ গ্রেফতার ৩

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে থাকা জঙ্গিদের তাৎক্ষণিক বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ রয়েছে এবং তারা অন্যদের এটা শেখাতো বলে জানিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট-সিটিটিসি।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও রাজধানীর কদমতলীতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার তিনজন হলেন কবীর আহাম্মদ (৫০), মো. ইয়াসিন (৪০) ও আব্দুর রহমান ইমরান (২৬)।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার জঙ্গিদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।

রোববারের অভিযানে তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় পিস্তল, ছয়টি একনলা বন্দুক, ১১ রাউন্ড গুলি, ১৪০ রাউন্ড সিসার তৈরি গুলি, দুই লিটার এসিড, গান পাউডার, তিন লিটার অকটেন, দুই কার্টুন ম্যাচ বক্স, একটি কয়েল বৈদ্যুতিক তার, দুই বোতল দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ, দুটি স্প্রে ক্যান, একটি লোহার করাত, স্কচ টেপ ও সুপার গ্লু, ট্রেনিংয়ের পোশাক, টুপি ও হ্যান্ডস করাত এবং ব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২১ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম তুহিন ও নাঈম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়িতে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে লুকায়িত অবস্থায় দুটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সিটিটিসি প্রধান।

উদ্ধার অস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যাপারে তিনি বলেন, সেই আইইডি তৈরির জন্য যেসব বিস্ফোরক দরকার হয়, সেগুলোও আমরা সেই ড্রাম থেকে উদ্ধার করেছি। বিস্ফোরকের জন্য উদ্ধারকৃত কাঁচামালগুলোর মধ্যে গান পাউডার, কার্টুনের বক্স দুটি, বিপুল পরিমাণ দিয়াশালাইয়ের বারুদ, বৈদ্যতিক তার, এছাড়াও অজ্ঞাত কিছু কেমিক্যাল, যা আমাদের বোম ডিসপোজাল টিম সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের ব্যাপারে তিনি বলেন, বিভিন্ন অঞ্চল বা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যাদের ট্রেনিং ক্যাম্পে পাঠানো হতো বান্দরবানে এই ইয়াসিন তাদের গ্রহণ করতেন। আপনারা জানেন যে, সেই ক্যাম্পে যাওয়ার পথটি দীর্ঘ ও বিভিন্ন জায়গায় বিরতি নিয়ে সেই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যেতে হতো। বিভিন্ন স্থানে তাদের যে শেল্টার হাউজ ছিল সেগুলো ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল ইয়াসিনের। পাশাপাশি ইমরান হুজুর নামে যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তিনি আব্দুর রহমান ওরফে ইমরান নামেই অধিক পরিচিত। সেই ইমরানের মাধ্যমে এই শামীম মাহফুজ আর্থিক লেনদেন করতেন। পাহাড়ি অঞ্চলে যে মোবাইল বা ফিনান্সিয়াল সার্ভিস আছে সেখানে লেনদেন একটু কঠিন কাজ। বিভিন্ন উৎস থেকে তারা যে টাকা পয়সা পেত তা ইমরানের মাধ্যমে সংগ্রহ হতো। সেই টাকা ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল ইমরান হুজুরের। এই দুজনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তাদের আমরা আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে পাঠাবো। তাদের রিমান্ডে এনে আরও তদন্ত করবো।

এই কর্মকর্তা বলেন, ইতোপূর্বে তারা কী কী ধরনের অস্ত্র সংগ্রহ করেছে এবং তাদের আর কোন ধরনের পরিকল্পনা ছিল না বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর কাছে তারা অস্ত্র সরবরাহ করে কি না তা জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করবো। অভিযানের সময় গ্রেফতারকৃতরা এসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন অভিযান চালায় তখন তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। সেই প্রতিরোধের মাধ্যম ছিল এই সরবরাহকৃত অস্ত্র।

গ্রেফতার কবিরের ব্যাপারে আসাদুজ্জামান বলেন, কবিরের পরিচয়টা দুই ধরনের। সে রেডিকালাইজডও হয়ে গিয়েছিল। তার নামে আগেও নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অস্ত্র মামলা ছিল। সে আগে থেকেই অস্ত্র বানানো ও চালানোতে পারদর্শী। শামীম মাহফুজের যেহেতু দীর্ঘদিন থেকে পাহাড়ি অঞ্চলে তার পদচারণা সেই সূত্র ধরে সে কবিরের সন্ধান পায়। কবিরকে এই ধরনের প্রস্তাব দেয়, একই সাথে তাকে মৌলবাদীও বানায়। সেই এই সংগঠনের সদস্য হয়ে কাজ করেছে। একই সাথে সে অস্ত্র সরবরাহের দায়িত্বে ছিল। এই কাজটি সে টাকার বিনিময়ে করতো। সে এই সংগঠনের প্রতি মানবিক ছিল এবং সংগঠনটির সদস্যও ছিল।

তারা অস্ত্রগুলো কি বিচ্ছিন্নবাদীদের কাছ থেকে কিনতো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে এখনও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। গতকাল রোববার বিকেলে তাদের উদ্ধার করে ঢাকার পথে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রওনা হয়ে ভোরে পৌঁছেছে। আমরা তাদের আদালতে পাঠাচ্ছি। রিমান্ডে পেলে অবশ্যই বিষয়গুলো জিজ্ঞাসাবাদ করবো।

তারা আইইডির (তাৎক্ষণিক বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ) মাধমে কীভাবে বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ পায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের জানামতে ওখানে যেসব সদস্য ছিল তাদের মধ্যে দুই একজনের হয়ত আইইডির বানানোর প্রশিক্ষণ ছিল। হয়তো দুই একজন বানাতে পারতো। তাদের মাধ্যমেই বাকিদের আইইডির বানানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এই আইইডির বানানোর জন্য যেসব কাঁচামাল দরকার সেগুলোই আপনাারা দেখেছেন। এইগুলোই আইইডির বানানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। দুই একজন আইইডির বানানোর ওখানে ছিল তাদেরকেও আমরা গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছি। গ্রেফতারকৃত শামীম মাহফুজ এই আইইডির বানানোর কাজে বেশ পারদর্শী।

পুলিশ জানায়, যে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো দেশি। তবে তারা দেশি-বিদেশি দুই ধরনের অস্ত্রই ব্যবহার করতো। তারা বিদেশি অস্ত্র কোন উৎস থেকে পেত তাও জিজ্ঞাসাসাদের মধ্যে আসবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এই সংগঠনের কতজন সদস্য রয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আপাতত হিজরতকারীদের বিবেচনায় নিচ্ছি। এর বাইরে আরও সংগঠনটির প্রতি মানবিক সমর্থিত কেউ আছে কি না সেগুলো আমরা বিভিন্ন পর্যায়ের জিজ্ঞাসাদের মাধ্যমে নিয়ে আসছি। আসলে সেই সংখ্যা তো ওইখানে বলার সুযোগ নাই। যারা আছে তাদের বিষয়ে আমরা কাজ করছি।

জঙ্গিদের অস্ত্রের সোর্স সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তারা ইতোমধ্যে বেশ কিছু অস্ত্র সংগ্রহ করেছে। সেই অস্ত্রের তালিকায় যেমন দেশি অস্ত্র ছিল, তেমনি বিদেশি অস্ত্রও ছিল। তারা দেশি অস্ত্র একটি সোর্স থেকে পেয়েছিল এবং বিদেশি অস্ত্র অন্য আরেকটি সোর্স থেকে পেয়েছিল। শারকীয়ার মাস্টারমাইন্ড শামীম মাহফুজের মাধ্যমেই এই অস্ত্র সংগ্রহ করা হতো। সেই সাথে সেই রকম একজন ব্যক্তির আমরা নাম পাই, অনেক দিন ধরেই তাকে শনাক্তের কাজ চলছিল। অবশেষে তাকে আমরা শনাক্ত করতে সক্ষম হই। তার নাম কবির আহমেদ। সেই কবিরকে নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে সিটিটিসির একটি টিম গ্রেফতার করে এবং তার দেখানো পথে দুইটি ড্রাম ভর্তি অস্ত্র মাটির নিচ থেকে লুকানো অবস্থায় রাখা সেটি উদ্ধার করে। খবর সূত্র ঢাকা মেইল।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়