শুক্রবার, মে ১, ২০২৬
spot_img
Homeসংবাদঅন্তর্বর্তী সরকারে বড় রদবদল

অন্তর্বর্তী সরকারে বড় রদবদল

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারে বড় রদবদল হয়েছে। যুক্ত হয়েছেন নতুন তিন উপদেষ্টা। পুরোনো ছয়জনের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার আরও তিনজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের ভাষ্য, কাজে গতি বাড়াতেই এসব পরিবর্তন।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন শিল্পপতি সেখ বশির উদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে থাকা মো. মাহফুজ আলম এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এ নিয়ে উপদেষ্টার সংখ্যা বেড়ে ২৪ হলো।

সেখ বশির বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, ফারুকী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। গতকাল রাত পর্যন্ত মাহফুজ আলমকে কোনো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়নি। উপদেষ্টাদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োকনিষ্ঠ এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব বাড়িয়ে যুব ও ক্রীড়া সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ের মতো বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই রদবদলে সরকারে ছাত্রনেতাদের প্রভাব আরও বাড়ল। যদিও ২৫ বছর বয়সী এ উপদেষ্টাকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

গতকাল রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টাসহ সাতজনের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের প্রজ্ঞাপন হয়। এতদিন জনপ্রশাসনের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারকে খাদ্য মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। ড. ইউনূস নিজের হাতে রেখেছেন জনপ্রশাসন। আমলাদের বদলি-পদায়নে আওয়ামীপন্থিদের ‘গুরুত্ব’ দেওয়া হচ্ছে অভিযোগে আলী ইমাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরে ক্ষোভ জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা। গতকালও সচিবালয়ে জমায়েত হন তারা।

মন্ত্রণালয় না পাওয়া মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আলী ইমাম মজুমদারের মতো সংযুক্ত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে তিনি জনপ্রশাসনসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব কার্যক্রম দেখবেন বলে সরকারি সূত্র জানায়। এতে সরকারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে। শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন ঘটানো ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মাহফুজ আলম সংবিধান সংস্কার কমিশনেরও সদস্য।

হাসান আরিফকে স্থানীয় সরকার থেকে সরিয়ে ড. ইউনূসের অধীনে থাকা বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরে শুরু থেকেই শোনা যাচ্ছিল, গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকারের কাজকর্মে ধীরগতি চলছে। ভূমি মন্ত্রণালয় আগের মতো হাসান আরিফেরই থাকছে। রাজনৈতিক সরকারে স্থানীয় সরকারের দায়িত্বে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা থাকেন। আসিফ মাহমুদের এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে সরকারে অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্বের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হলো।

এদিকে শপথ অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সর্বাত্মকভাবে শামিল দলের নেতাদের। রাজনৈতিক দলগুলোর ভাষ্য, উপদেষ্টা নিয়োগে মতামত নেয়নি সরকার। তবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বিএনপি। নতুন দুই উপদেষ্টার বিষয়ে আপত্তি শোনা গেছে দলগুলোর ভেতরে। এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে বঙ্গভবনের সামনে। সামাজিক মাধ্যমেও সমালোচনা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিএনপি আমলের পুলিশ মহাপরিদর্শক খোদা বখশ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ড. সায়েদুর রহমান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিএনপি আমলে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলামকে বিশেষ সহকারী নিয়োগ করা হয়েছে। মাহফুজ আলম উপদেষ্টা হওয়ার পর নতুন তিনজনসহ বিশেষ সহকারীর সংখ্যা চার হলো।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়