Wednesday, June 24, 2026
spot_img
Homeসংবাদদুয়ারে ভোট, আসছে নতুন সরকার

দুয়ারে ভোট, আসছে নতুন সরকার

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হচ্ছে আগামীকাল। জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে নাগরিকদের অনুমোদন নিতে একই দিনে গণভোটও হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে তাই প্রত্যাশাও বেশি। মানুষের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, বিজয়ী দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টাও আশ্বাস দিয়েছেন।

অপেক্ষার প্রহর শেষ। রাত পোহালেই বহুল কাঙ্ক্ষিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ। একইসঙ্গে হবে গণভোট। এজন্য ভোটারদের আলাদা একটি গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার দেওয়া হবে, যেখানে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের উপর ভিত্তি করে চারটি নির্দিষ্ট প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

চট্টগ্রামে ১৬ সংসদীয় আসনে ভোটাররা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে সনাতন পদ্ধতিতে (ব্যালট পেপার) নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। নির্বাচনী মাঠে এখন ভোটার ও প্রার্থীদের ভোটের ক্ষণের অপেক্ষা। উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আজ বুধবার সকাল থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপারসহ সকল নির্বাচনী সামগ্রী। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা, বিশেষ করে প্রিসাইডিং অফিসারগণ ব্যালট পেপারসহ ভোটের এসব সামগ্রী নিয়ে আজ সকাল থেকে কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় শান্তি–শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছেন।

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র এবং ১২,০০১টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণের জন্য ৪০ হাজারের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার) ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্য এবার ভোটকেন্দ্র ও ভোটের নিরাপত্তার দায়িত্বে মাঠে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার ড. মো. জিয়াউদ্দীন  বলেন, এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি একাধিক সংস্থার স্ট্রাইকিং ফোর্স রয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাবের একাধিক টিমও দায়িত্বে রয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে কোনো না কোনো বাহিনী উপস্থিত হয়ে যাবে। এবার বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

সমন্বয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার : সমন্বয় জোরদার করতে বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের কার্যক্রম জেলা সদর থেকে অনলাইনে সরাসরি তদারকি করা হবে। জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, বেশ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের রিয়েল টাইম মুভমেন্ট ট্র্যাক করা সম্ভব হবে।

নিরাপত্তা চাদরে পুরো জেলা : নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আনসার বাহিনী নিজস্ব নিরাপত্তা অ্যাপ তৈরি করেছে, পুলিশ সদস্যরা বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন এবং বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছেও বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে। কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এবার কোনো নাটক করার সুযোগ নেই।

জরুরি সাড়া ও গুজব প্রতিরোধ : জেলা প্রশাসক জানান, কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে স্ট্রাইকিং ফোর্স মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। এছাড়া গুজব প্রতিরোধে সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক লিংক বা তথ্য পাওয়া মাত্র অ্যাপের মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ৭ দিনের জন্য। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ঘিরে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।

১৬ আসনে ভোটকেন্দ্র : চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র এবং ১২০০১টি ভোটকক্ষে ভোট হবে। ভোটগ্রহণের জন্য ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। ১৬ আসনে ১৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬০৭টি সিএমপির ১৬ থানার অধীনে। অবশিষ্ট ১৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭টি থানার অধীনে।

পুলিশের পক্ষ থেকে এসব কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পুলিশি ভাষায় এসব কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী মহানগর পুলিশে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়